শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
নওগাঁ সহ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের আজ ষষ্ঠী পূঁজা শুরু ৮৩৬ মণ্ডপে বাজবে ঢাক ও কাঁশি নওগাঁর মান্দা জয় বাংলা মহাদেবপুরে তীব্র সার সংকটে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ মৌলভীবাজারে পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ৬ হাজার ১৭২জন আনসার সদস্য নওগাঁর পত্নীতলায় মাদকবিরোধী অভিযানে(৫০০+৯০)লিটার চোলাই মদ সহ তিনজন গ্রেফতার  দূর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থানা প্রশাসনের সাথে পৌর বিএনপির মতবিনিময় মৌলভীবাজারে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মতবিনিময় যুক্তরাষ্ট্রে ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডের ২৫তম আসরে শ্রেষ্ঠ ফোক সংগীতশিল্পীর সম্মাননায় ভূষিত রেশমী মির্জা নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিসি জাহিদ ​জনকল্যাণে চাটগাঁর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন: জালালাবাদে অসহায়দের মুখে হাসির ফোয়ারা

কথিত সীমানা পিলার-কয়েনের ফাঁদে কোটি টাকা আত্মসাৎ, মৌলভীবাজারে গ্রেপ্তার ৪

কথিত সীমানা পিলার-কয়েনের ফাঁদে কোটি টাকা আত্মসাৎ, মৌলভীবাজারে গ্রেপ্তার ৪ প্রাচীন কয়েন ও মূল্যবান ধাতব বস্তু দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজন।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: কথিত মূল্যবান সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েন ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—এস এম ইলিয়াছুর রহমান (৩৬), মো. ইকরাম মিয়া (২৮), তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান (৬১) ও মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৭)।

পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল ও ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।

পরে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি কথিত ‘এন্টিক পাওয়ার কয়েন’, যার মূল্য ২০০ কোটি টাকা বলে প্রচার করা হচ্ছিল, একটি নোহা গাড়ি, একটি পকেট রাউটার, আটটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন নামে ৫০০টি ভিজিটিং কার্ড, ৯৪ পাতা কথিত ভুয়া বিজনেস এগ্রিমেন্ট, তিনটি চেকবই, একটি কয়েন ব্ল্যাংক অ্যালবাম, একটি ডায়েরি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১০টি সিমকার্ড, ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি কথিত ভুয়া স্ট্যাম্প এবং ‘এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর নামে একটি কথিত ভুয়া সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর/সঠিক তারিখ নিশ্চিতসাপেক্ষে) সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা এসব তথ্য জানান।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিশেষ করে Heritage Auction, Lockheed Martin, BlackRock ও Microsoft-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তারা মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন বলে জানানো হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৩ সালে ঢাকার ডিবি পুলিশের একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

যেভাবে প্রতারণার অভিযোগ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৩৫) প্রায় ছয় মাস আগে পূর্বপরিচিত এস এম ইলিয়াছুর রহমানের মাধ্যমে কথিত মূল্যবান ধাতব বস্তু ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন।

একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, চাতলাপুর চা বাগানের কয়েকজন ব্যক্তির কাছে ব্রিটিশ আমলের একটি মূল্যবান ধাতব বস্তু রয়েছে, যার মূল্য হাজার কোটি টাকারও বেশি। ঢাকার একটি পক্ষ সেটি কিনতে আগ্রহী এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা গেলে বিপুল অর্থ লাভ করা সম্ভব—এমন প্রলোভন দেখানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলেও পূর্বপরিচিত ইলিয়াছুর রহমানের আশ্বাসে আব্দুর রহিম বিষয়টি যাচাই করতে চক্রের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁর আমেরিকাপ্রবাসী মামাতো ভাই মির্জা খালেদুর রহমানকেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান নিজেকে ‘US Heritage Auction’-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিচয় দিয়ে কথিত মূল্যবান ধাতব বস্তুটি কেনার বিষয়ে ভিকটিমের মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুরো বিষয়টিকে একটি বৈধ ও বড় ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে উপস্থাপন করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

পরবর্তীতে কথিত ধাতব বস্তুটির সত্যতা যাচাইয়ের নামে একজনকে ‘এক্সপার্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট ভিকটিম ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চাতলাপুর চা বাগানে যান। সেখানে কথিত ‘এক্সপার্ট’ ধাতব বস্তুটি পরীক্ষা করে সেটি মূল্যবান বলে জানালে ভিকটিম ও তাঁর মামাতো ভাইয়ের মধ্যে সেটির প্রতি বিশ্বাস তৈরি হয়।

এরপর কথিত লেনদেন সম্পন্ন করতে বাগানিদের অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com