মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন ও প্রকৃতি। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলিতে।
পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করেই শীতের দাপট বেড়ে গেছে। সকালে ঘর থেকে বের হতেই মানুষকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে হিমেল বাতাসের তীব্রতা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন আকাশ, দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনে ছন্দ হারিয়েছে নগরজীবন, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা হিমবাহের প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে এসেছে। এ কারণে আগামী আরও ৩ থেকে ৪ দিন সারা দেশে ঘন কুয়াশা বিরাজ করতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, আগামী কয়েক দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর বাইরেও শীতের প্রকোপ স্পষ্ট। কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক দিন ধরেই দুপুর গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
এদিকে, শীতের দাপটে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং শীত থেকে সুরক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
শীতের এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।