শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
নিউজ ডেস্ক: সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হলো জুমা। আল্লাহতায়ালা এই দিনকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় দিন জুমার দিন। এদিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু আমল, যা পালন করলে পাওয়া যাবে অফুরন্ত সওয়াব ও পরকালীন সফলতা।
জুমার গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন-
‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে চলো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝতে পারো।’
(সুরা জুমআ : ৯)
এ আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে যে, আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে দ্রুত মসজিদে যেতে হবে। শুধু নামাজ পড়াই যথেষ্ট নয়, বরং যত আগে যাওয়া যায় ততই উত্তম।
রাসুল (সা.) বলেছেন-
“যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরু, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়া, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগি এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। এরপর ইমাম খুতবা শুরু করলে ফেরেশতারা আমল লেখা বন্ধ করে খুতবা শোনেন।”
(বোখারি : ৮৮১)
ইতিহাসের প্রথম জুমা
নবীজি (সা.) যখন হিজরত করে মক্কা থেকে মদিনার পথে ছিলেন, তখন তিনি কুবায় কয়েকদিন অবস্থান করেন। সেখান থেকে জুমার দিনে মদিনার পথে বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছলে জোহরের সময় হয়ে যায়। তখনই তিনি প্রথমবারের মতো জুমার নামাজ আদায় করেন।
ঐ জামাতে প্রায় একশ জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
তবে অন্য কিছু বর্ণনায় চল্লিশ জন থাকার কথাও পাওয়া যায়।
(বোখারি ১ম খণ্ড : পৃ. ৪৫৫-৫৬০; ইবনে হিশাম ১ম খণ্ড : পৃ. ৪৯৪)
জুমা ফরজ হওয়ার আগের নামাজ
হিজরতের পর জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে নবুয়তের ১২তম বর্ষে মদিনার নাকিউল খাজিমা এলাকায় একবার ২ রাকাআত জুমা আদায়ের ঘটনা পাওয়া যায়। সেখানে হজরত আসআদ বিন জুরারাহ (রা.) ইমামতি করেন। তবে এটি ছিল নফল নামাজ।
জুমার দিন নির্ধারণ
মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত- ফরজ হওয়ার আগে আনসারগণ একত্রিত হয়ে আলোচনা করেন, ইহুদিদের শনিবার এবং নাসারাদের রবিবার নির্ধারিত আছে। তাই মুসলমানদেরও একটি দিন থাকা উচিত। আলোচনার পর তারা শুক্রবার নির্বাচন করেন, যা ‘ইয়াওমুল আরুবা’ নামে পরিচিত ছিল। এরপরই দিনটির নাম হয় ‘জুমার দিন’।
(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৩/১৫৯, হাদিস : ৫১৪৪)