মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে খরিদা জমি দখল করতে সন্ত্রাসী হামলা, হুমকি ও সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে উল্টো জমি দখলের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন শহরের হবিগঞ্জ রোডের মো. রুকুম উদ্দিন ওরফে দোলন (৫০)।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকালে শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ রোড স্থানীয় বাগানবাড়ি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে রুকুম উদ্দিন দোলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার পিতা বাবা মো. আলাউদ্দিন ২০০১ সালের ১২ জুলাই জনৈকা জাহেদা বেগম এর নিকট থেকে ২৭৯৮/০১ নং দলিলমূলে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমির এসএ খতিয়ান নং ১৫৯৪/দাগ নং ৪২২২।
জমি ক্রয় করার পর থেকে অদ্যাবধি আমরা উক্ত জমিতে গাছ পালা রোপন ও ক্ষেত খামারি করিয়া প্রায় ২৫ বছর যাবত ভোগ দখল করে আসছি। উক্ত ৪২২২ দাগের অনুকুলে খাজনাও পরিশোধ করে আসছি। আমার বাবা একজন লন্ডন প্রবাসী। দীর্ঘদিন যাবত তিঁনি লন্ডনে অবস্থান করায় জায়গার নামজারি করতে সম্ভব হয়নি। বিগত ৩ মাস পূর্বে জনৈক ফারুক আহমেদ ও জিল্লুর রহমান বাবার খরিদা জমি নিজেদের বলে দাবী করেন। এসময় ফারুক আহমেদ গং এর কাছে জমির কাগজপত্র দেখাতে বলি। কিন্তু অদ্যবধি তারা আমাদের কাছে কোন দলিল দেখাতে পারেনি।
এরপর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমার বাবার খরিদা সম্পত্তি এস নং ১৫৯৪ দাগ ৪২২২ আরএস খতিয়ান ৭৭৫ দাগ ৫৮২৩ দাগের জমি ফারুক আহমেদ ও জিল্লুর রহমানের নামে আরএস নামজারি করা হয়েছে।
কাগজপত্র তল্লাসি করে দেখতে পাই উক্ত ফারুক আহমেদ গং জনৈকা দিলুফা হায়দার নামে এক নারীর কাছ থেকে ১৯৯৮ সালে পৃথক ২টি দলিলে ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ফারুক আহমেদ গং জমি ক্রয়ের পর থেকে ৪২২৩ দাগে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এবং জমি বিক্রেতা দিলুফা হায়দারও একই জমিতে দখলে ছিলেন। কিন্তু ভুল বসতঃ দলিলে দাগ নং ৪২২২ উল্লেখ করা হয়।’ রুকুম উদ্দিন আরো বলেন, ‘তাদের দখলীয় জমির সাথে দাগের অমিল থাকার বিষয়টি বুঝতে পেরে ফারুক আহমেদ গং গত ৩ এপ্রিল ২০০৭ সালে দাগ নং ৪২২৩ প্রতিষ্ঠা করতে দলিল সংশোধনের নিমিত্তে জনৈক মনাই শব্দ করকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার সাব জজ আদালতে পৃথক দুটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৬ ও ৬১। গত ৩০ আগষ্ট ২০১৫ তারিখে মহামান্য আদালত এক রায়ে দলিল সংশোধনের জমির এসএ মালিক জিতেন্দ্র কুমরার পাল এর ওয়ারিশদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে ডিক্রি প্রদান করে।
এরপর ২০২৫ সালে এসএ খতিয়ান ১৫৯০, দাগ নং ৪২২৩ বিআরএস দাগ ৫৮২৫ সঠিক হিসেবে সংশোধন করে দেয়। যার দলিল নং ২০৯২/২৫, তারিখ ১৯/০৫/২০২৫ইং। এরপর জিল্লুর রহমান গং জিতেন্দ্র গং দের নিকট থেকে সরাসরি খরিদা সাব কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে নেন। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় পাশ কাটিয়ে জিল্লুর রহমান গং তাদের সাবেক দলিল নিয়ে আমার জমি দখলে নিতে চেষ্টা করতে থাকে। এনিয়ে স্থানীয় মুরুব্বীগনের সম্মুখে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়। শালিসের দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও কোন সমাধান না হওয়ায় মুরুব্বীরা আবারো বৈঠকের তারিখ দেয়। কিন্তু সেই ধার্য তারিখের পুর্বেই গত ১০ মার্চ তারিখে সকালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাবার খরিদা উক্ত জমি দখলে নিতে হামলা করে। আমি সাথে সাথে ৯৯৯-এ ফোন দিলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। একই দিন সন্ধার পর আবারো একই ভাবে আমাাদের জমি দখলে হামলা চালায়’।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ মার্চ তারিখে ফারুক আহমেদ গং উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা জমি দখলের অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করে। ‘ সাংবাদিক সম্মেলনে রুকুম জানান, ‘ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় আমার বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আমাদের জানমালের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বর্তমানে আমরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছি। ‘তিনি এ বিষয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ পেতে প্রশাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।’