মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
নবীনগরে তিতাস নদীর পাড় অবৈধভাবে বালু ভরাট ভূঞাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা জয়পুরহাটে আদিবাসী কিশোরের মরদেহ সমাধিতে বাধা, হামলায় আহত ৩ শ্রীমঙ্গলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা বাসসের নতুন এমডি ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মহাদেবপুরে গভীর রাতে বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, আহত ১ শ্রীমঙ্গলে দুর্লভ প্রজাতির ‘সাইবোল্ডস ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শ্রীমঙ্গলে বই পড়ায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করলেন এমপি হাজী মুজিব মহাদেবপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ৪০ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি

নেত্রকোনায় রুফটপ সোলার জাতীয় অগ্রাধিকারের আহ্বান জানিয়ে পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারক লিপি প্রদান 

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা :
ব‌্যবহৃত ও অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি সমাধান: রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-‌নেত্রকোণার  উদ্যোগে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন শেষে পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় ফোরাম এর  আহ্বায়ক আলী আমজা‌দ এর  সভাপ‌তিত্বে ও এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার।ময়মনসিংহ  অনন্য চিত্র ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক  রেবেকা সুলতানা,ফোরামের  সদস্য সচিব  এআরএফবি চেয়ারম্যান দিলওয়ার খান।
বক্তব্য রাখেন এআরএফবি প্রোগ্রাম অফিসার পারভেজ কামাল, এআরএফবি সেক্রেটারি চন্দন নাথ চৌধুরী সহ ফোরামের নেতৃবৃন্দ।উক্ত মানববন্ধন শেষে ফোরামের নেতৃবৃন্দ পৌর প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপিবহস্তান্তর করেন। রবিবার নেত্রকোণাতে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন ও পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকোণা (FED-Netrokona), ক্লিন,বিডাব্লিউজিইডি এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি খাতের এই পরিবর্তনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
‎সমাবেশে মূল বক্তব্যে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকাণা (FED-Netrokona) এর নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য এবং অত্যন্ত কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বক্তারা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে শুরু করে স্কুল, হাসপাতাল এবং গ্রামীণ বাজারগুলোর বিশাল অব্যবহৃত ছাদ যদি সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা যায়, তবে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি বৃহৎ জ্বালানি বিপ্লব শুরু করা সম্ভব।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ছাদ কোনো কাজে আসছে না। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর লোড-শেডিংয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। এই রূপান্তর কেবল পরিবেশই রক্ষা করবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার সৃষ্টি করবে।
বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের নিকট ৫-দফা জোরালো দাবি পেশ করেন।
‎দাবিসমূহ হলো,-স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে (ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন) রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে; সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার গ্যারান্টি দিতে হবে; জ্বালানি রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে; এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্র থেকে নেওয়া পরিকল্পনা টেকসই হবে না। বাংলাদেশ যদি এখনই রুফটপ সোলারকে অবহেলা করে, তবে দেশ পুনরায় ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক জ্বালানি সংকটের আবর্তে নিমজ্জিত হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com