সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যের পাশাপাশি সর্বোপরি নিয়োগগত উপযুক্ততাকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের ত্যাগের জন্য নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহতদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ ও বীর সদস্যদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে নবউদ্বোধিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এরপর বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমান প্রতিহত করার কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম থেকে ড্রোনের লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন), কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটিওএল প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।
নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা তৈরির এ উদ্যোগকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।