রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে আজ ঢামেক হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সেখানে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তারা। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্মূল করা হবে।
তিনি বলেন, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে এনে আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা এ কাজে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তার চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের হামলার শিকার হন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনকে ঘটনাস্থল থেকে, একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে, একজনকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এবং অপরজনকে সাঁতারকুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে। বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা পাঠানো এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে বা তাদের সহযোগিতা করলে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইন ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশের যেকোনো নাগরিক শর্টগান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করলে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তার আবেদন বিবেচনা করা হবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।