মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

মোঃ সেলিম উদ্দিন খাঁন
চট্টগ্রামের আবারও কাঁচা মরিচের বাজার অস্থির, পাইকারিতে দাম ২৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। এক মাসে দাম বেড়েছে ১১০ টাকা, খুচরা বাজারে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কমে গেছে ফলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম কমছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, সব পর্যায়ে তদারকি চলছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রামে রিয়াজুদ্দিন বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা সবজি। বাজারটিতে বর্তমানে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ২৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫০ টাকায়। তবে নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে ভ্যান গাড়িতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়। পাইকারি বাজার যাচাই করে দেখা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ১২০ টাকায়। দেশে এই পরিস্থিতি তৈরি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তে শুরু করে মরিচের দাম। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বন্যা পরিস্থিতিতে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে না পারায় বাজারে তৈরি হয় সংকট। আর এই অজুহাতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ২২০ টাকায়। তবে সরবরাহ বাড়লে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দাম কমে কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। একদিন পর অর্থাৎ ২৭ আগস্ট দাম আরও কমে গিয়ে কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচের দাম ঠেকে ১৭০ টাকায়। কাঁচা মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২০ দিন আগেও কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক মরিচ নষ্ট হয়েছে। সরবরাহও আগের তুলনায় কম। তাই পণ্যটির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রিয়াজুদ্দিন বাজার ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ শিবলী বলেন, সরবরাহ কমায় পাইকারিতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে। সরবরাহ বেড়ে গেলে অবশ্যই দাম কমে যাবে। কারণ এটা পচনশীল পণ্য। তবে খুচরায় মাত্রাতিরিক্ত দামে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। নগরের নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফুল আলম বলেন, খুচরা বাজারে সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তি। খুচরা ব্যবসায়ীরা একটা ডিম ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করছে। কাঁচা মরিচ দোকানে ৩১০ টাকায়, আবার ভ্যানগাড়িতে ৩২০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। এক কথায়, তদারকি না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছে বাড়তি দরে পণ্য বিক্রি করছে। তাই খুচরা বাজারেও তদারকি করা উচিত।
খাতুনগঞ্জে কমেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ
সরবরাহ বাড়ায় খাতুনগঞ্জে কমতে শুরু করেছে মসলাজাতীয় পণ্যের দাম। দশদিনের ব্যবধানে ভারতীয় ও দেশি পেঁয়াজের কেজিতে কমেছে ১০ টাকা। পাশাপাশি মিশরীয় পেঁয়াজের কেজিতে ৫ টাকা ও পাকিস্তানি পেঁয়াজের কেজিতে ৩ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকায়, মিসরীয় ও পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পাইকারি এই বাজারে প্রতিকেজি কেরালা আদা ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, মায়ানমারের আদা ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও দেশি আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজিতে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাতুনগঞ্জে আমাদের ১০০ টাকার ওপরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছিল। বর্তমানে ভারত থেকে কম শুল্কের পেঁয়াজ আসছে। পাশাপাশি মিসর, পাকিস্তানসহ অন্য দেশ থেকেও পণ্যটি আসায় সরবরাহ বেড়েছে। তাই দামও কমতির দিকে রয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘আমরা সব সময় দেখেছি, কর্মকর্তারা পাইকারি কিছু দোকানে তদারকি করে অভিযান কার্যক্রম শেষ করে দেন। অসাধু ব্যবসায়ী তো শুধু পাইকারি বাজারে নয়, খুচরা পর্যায়েও রয়েছে। সেখানেও তো সমানতালে অভিযান চালানো প্রয়োজন। খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি ভোক্তার সম্পর্ক। তাদের শাস্তি দেওয়া না হলে বাড়তি দাম নেওয়ার অপরাধ প্রবণতা থেকেই যায়।
তবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামের পাইকারি থেকে শুরু করে খুচরা সব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিম, মুরগি, সবজি, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়, বিক্রয়মূল্য, মূল্য তালিকা সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরিমানা ও সতর্ক করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী সমিতিকেও যাবতীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।