বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৮ জন নিহত এবং ৭৯১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৩৪ জন। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নৌপথে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন এবং রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন।
আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে দেখা যায়, আগস্ট মাসে মোট ৪৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগস্ট মাসে দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৮ জন নিহত এবং ৭৯১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী এবং ৩৪ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে ১৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ১৭ জন আহত এবং ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। এই এক মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। থ্রি-হুইলার অর্থাৎ সিএনজি, অটোভ্যান, লেগুনাসহ বিভিন্ন অটোযানে নিহত হয়েছেন ৯৭ জন, যা ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পথচারী নিহত হয়েছেন ৮৩ জন, যা ১৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৫২ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন, যা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।দুর্ঘটনার ধরন,দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০৭টি দুর্ঘটনা হয়েছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯০টি দুর্ঘটনা হয়েছে মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৮৫টি পথচারীকে চাপা দিয়ে এবং ৬২টি অন্য যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দিয়ে। শহর ও গ্রামীণ এলাকাতেও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় মহাসড়কে ৪৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ, আঞ্চলিক সড়কে ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ,সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং রাতে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বিকেলে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ভোরে ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান,
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১১৯টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে কম ৬টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ,নিহতদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ৯ জন শিক্ষক, ৩ জন সাংবাদিক, ৫ জন ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৩ জন এনজিও কর্মী, ১৬ জন স্থানীয় ব্যবসায়ী, ১১ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ৪ জন মৎস্যজীবী, ৩ জন পোশাক শ্রমিক, ৪ জন নির্মাণ শ্রমিক, ১ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ২ জন ভিক্ষুক এবং ২ জন প্রতিবন্ধী নিহত হয়েছেন।দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন,
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৬৬২টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১২৭টি, বাস ৯২টি, ট্রাক ৮৭টি, প্রাইভেটকার ২২টি, মাইক্রোবাস ১০টি, বিভিন্ন স্থানীয় যানবাহন ৩৭টি এবং বাইসাইকেল ও রিকশা ছিল ১৮টি। দুর্ঘটনায় আরও ছিল কাভার্ডভ্যান, ট্রলি, লরি, ডাম্পার, ড্রাম ট্রাক, সেনা টহল ভ্যান ও ভেকুসহ বিভিন্ন যানবাহন।