শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
অর্থনীতি ডেক্স:
২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগারে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব জমা দিয়েছে। রাজস্ব আয় ও রাজস্ব উদ্বৃত্ত—উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের দাবি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব ব্যয়ের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে ভ্যাট, ট্যাক্স ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) মিলিয়ে গত পাঁচ বছরে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মোট ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা।
পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে ওই বছরে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০২৪ সালে রাজস্ব আয় ছিল ৫ হাজার ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ৯২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ১৪৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ৬৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে কঠোর নীতি অনুসরণের ফলে গত দুই বছরে রাজস্ব ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি এক অঙ্কে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালে ব্যয় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত পাঁচ পঞ্জিকাবর্ষে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ৭ হাজার ৫৮০ কোটি ২০ লাখ টাকার মধ্যে কর হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৫৩ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৩ হাজার ৪২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং কর-বহির্ভূত আয় (এনটিআর) হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়।
২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে কর, ভ্যাট ও কর-বহির্ভূত আয় মিলিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪ সালে জমা দেওয়া হয় ১ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০২৩ সালে ১ হাজার ৫১৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ হাজার ১৮৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫—এই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয়ে গড়ে ১৩ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব উদ্বৃত্তের গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। সেবার মান অক্ষুণ্ন রেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর মাধ্যমেই এ সাফল্য এসেছে বলে দাবি করা হয়।