সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁঃ
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা শহর নওগাঁ এখন কার্যত যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন শহরবাসী ও পথচারীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নওগাঁ পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের আয়তন ৩৮ দশমিক ৪২ বর্গকিলোমিটার।
২০১০ সাল থেকে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া শুরু হলেও ২০১৬ সালের পর নতুন লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সধারী ইজিবাইক রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। এর বাইরে প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক চলাচল করছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। এ ছাড়া সিএনজি, রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ আরও প্রায় ১০ হাজার যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে শহরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মেইন রোডের কাঁঠালতলী থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড, তাজের মোড়, ব্রিজের বাটার মোড়, সরিষাহাটির মোড়, মুক্তির মোড়, কাজীর মোড়, রুবির মোড়, দয়ালের মোড় হয়ে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে।সড়কের দুই পাশে স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেন।
অনেক দোকানি দোকানের সামনের জায়গা দখল করে মালামাল রাখায় সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ছোট যানবাহনের চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
কাপড়পট্টির কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক যেখানে-সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট বাড়ছে। শহরে নির্দিষ্ট গোলচত্বর বা পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকাও বড় সমস্যা।
অন্যদিকে ইজিবাইকচালক সোহেল রানা ও নাজমুল হোসেন বলেন, শহরে বৈধ কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন মোড়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে হয়। অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানান তারা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, নওগাঁ শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সান্তাহার মোড় থেকে চৌমাসিয়া চত্বর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিক জানান।