শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
অবরুদ্ধ গাজায় তীব্র শীতকালীন ঝড় ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় গত কয়েক দিনে অন্তত আট ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই উপত্যকায় নতুন করে শুরু হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁবুতে বসবাসরত হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঝড়ো হাওয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ভবন ধসে পড়লে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র জানান, তীব্র ঠান্ডার কারণেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে এক বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। শিশুটি দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি তাঁবুতে প্রচণ্ড শীতে জমে মারা যায়।
এদিকে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানিয়েছেন, চলতি শীত মৌসুমে গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়টি শিশু হাইপোথার্মিয়ায় প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে গাজা শহরে ঝড়ের কবলে পড়ে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে আরও চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
যদিও ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে ইসরায়েল গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা ও শীতকালীন সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে গাজার জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।
এই পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতাকে দায়ী করে হামাস এক বিবৃতিতে একে ‘গণহত্যার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে গাজা শহরের রিমাল এলাকায় অবস্থিত আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক মাসের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণে দুর্বল হয়ে পড়া অবকাঠামো সামান্য ঝড়ো হাওয়াতেই ভেঙে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় অবিলম্বে ত্রাণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং শীতকালীন সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।