রবিবার, ১৪ Jul ২০২৪, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
বঙ্গবন্ধু কন্যা গোলামী চুক্তি করেননি উন্নয়নের চুক্তি করেছেখাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদা নওগাঁর মান্দা গোটগাড়ী অধ্যক্ষের কক্ষের তালা ভেঙে প্রবেশ করলেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের বিতর্কিত করায় এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের প্রথম স্ত্রী লাকীর বিরুদ্ধে বিএমইউজে চট্রগ্রাম জেলা আহবায়ক কমিটির প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রয়াণ দিবস আজ জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ পাঁচজন জুয়াড়ি গ্রেফতার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা-ধরলার পানি, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ হাড্ডাহাড্ডি দুই চৌধুরীর ‘লড়াই লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জিতে গেলেন খোরশেদুল আলম চৌধুরী কোন লক্ষণে বুঝবেন বিবাহবিচ্ছেদ ঘটতে পারে? সিসিটিভি ফুটেজ এবং ‘Hello CMP’ অ্যাপের “আমার গাড়ি নিরাপদ” সেবার সহায়তায় মুখে হাসি ‘সরকার নারীর গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণের বিষয় বিবেচনা করছে’- অর্থ প্রতিমন্ত্রী

দুধ-চিনি-সেমাই-সুগন্ধি চালে গুনতে হবে বাড়তি দাম

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঈদের সকালে সেমাই কিংবা নামাজ থেকে ফিরে জর্দা-পোলাও- যাই খান না কেন এবার গুনতে হবে বাড়তি খরচ। সেমাই প্রস্তুতের প্রধান উপকরণ চিনি ও দুধের দাম বেড়েছে মাস দুয়েক আগেই। একই সঙ্গে ফিরনি, পোলাও রান্নার সব ধরনের সুগন্ধি চালের দামও বছরজুড়ে বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও বাজারের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এসব পণ্যের দাম এবার বেশি গুনতে হবে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছর ২০০ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন কোম্পানির সেমাইয়ের প্যাকেটের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। যা এবছর ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত ঘিয়ে ভাজা সেমাইয়ের দাম ৯০-১০০ টাকা। যা আগে ২০ টাকা কম ছিল।

শুধু ব্র্যান্ডের নয়, একইভাবে খোলা সাদা সেমাইয়ের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৪০-৫০ টাকা বাড়তি দেখা গেছে। গত বছর নন-ব্র্যান্ডের খোলা লাচ্ছা সেমাই প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার সেই লাচ্ছার মূল্য ধরা হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা।

বিভিন্ন মুদি দোকানে বিক্রি হওয়া লাচ্ছা ২০০-২৪০ টাকার জায়গায় এবার পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায়। গত বছর ঘিয়ে ভাজা যে লাচ্ছা মানভেদে ৪০০ থেকে হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেই একই লাচ্ছা ৮০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সেমাই ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার কাঁচামালের দাম অনেক বেশি। সেমাই তৈরির জন্য ব্যবহৃত ময়দা, তেলসহ অন্য উপকরণের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সেমাইয়ের দামে।

এ বিষেয়ে বাংলাদেশের রুটি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সেমাইয়ে ব্যবহৃত উপকরণের দাম বছর ব্যবধানে ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে বাধ্য হয়ে সেমাইয়ের দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে উপকরণের দাম যে হারে বেড়েছে এর চেয়ে সেমাইয়ের দাম কমই বেড়েছে।

বছরের ব্যবধানে এবার প্রতি কেজি চিনির জন্য গুনতে হবে ৩৭ থেকে ৫০ টাকা বেশি। চিনির দামের বিষয়ে খোঁজ নিতে রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ ও খিলগাঁও তালতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১৩০ টাকায়। আর প্যাকেটজাত চিনি ব্র্যান্ডভেদে ১২০-১৪০ টাকা এবং দেশি মিলগুলোর আখের চিনি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।চিনির দাম বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, টিসিবির তথ্যেও। সংস্থাটির হিসাবে, গত বছর প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৭৮-৮০ টাকা।

সারা বছর দফায় দফায় বাজারে গুঁড়া দুধের দাম বেড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, বিদেশি ব্র্যান্ডের এক কেজি গুঁড়া দুধের দাম দাঁড়িয়েছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। আর দেশি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮২০ টাকার আশপাশে।

দুধের দামের যে তথ্য টিসিবি দিচ্ছে তাতে দেখা যায়, গত এক বছরে দুধের দাম ২২ থেকে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছর বিদেশি ব্র্যান্ডের দুধ ৬৬০ থেকে ৭২০ টাকা ও দেশি ব্র্যান্ডেরগুলো ৬০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হয়েছে।

এর প্রভাবে বাজারে প্যাকেটজাত তরল ও সাধারণ গরুর দুধের দামও চড়া। বাজারে পাস্তুরিত তরল দুধের লিটার এখন ৮৫ থেকে ১০০ টাকা, যা গত বছর ৬০-৭০ টাকার মধ্যে ছিল। বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা গরুর দুধের দাম বেড়ে ১০০ টাকায় ঠেকেছে।

উম্মে সালমা নামে এক গৃহিণী জাগো নিউজকে বলেন, গত এক বছরে দুধের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। রমজান ও ঈদে দুধ বেশি লাগে। কিন্তু এর জন্য যে খরচ বহন করতে হচ্ছে সেটা নিম্নবিত্তদের জন্য সম্ভব নয়, মধ্যবিত্তরাও হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে নিয়মিত দুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। আমার পরিবারেও নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া আর দুধ কেনা হয় না।

তিনি বলেন, ঈদের সেমাইয়ের জন্য এক কেজি একটি দুধের প্যাকেট কিনতে খুব কষ্ট হয়েছে। খেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়ে কিনেছি।এছাড়া রোজার আগেই বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলা, বাদাম ও কিশমিশের দাম। একই সঙ্গে পোলাও-বিরিয়ানির জন্য ব্যবহৃত সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত এক বছরে কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা পর্যন্ত। গত বছর ঈদে যে চালের কেজি ১১০-১১৫ টাকা ছিল, এবার সেই একই চাল কিনতে গুনতে হবে ১৬০-১৭০ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুগন্ধি চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও কেন দাম বাড়লো তার কোনো সদুত্তরও নেই চাল ব্যবসায়ীদের কাছে। কেউ বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ছে। আবার কেউ চাল বাজারে করপোরেট কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

দাম বাড়ার কারণ যেটাই হোক না কেন বিত্তবান কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে পোলাও, বিরিয়ানি, ফিরনি, পায়েস থাকেই। আর সেসব আয়োজনের মূল উপকরণ হচ্ছে সুগন্ধি চাল। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও সুগন্ধি চালের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চাহিদার সঙ্গে দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সুগন্ধি চাল। এ ঈদেও হয়তো দামের কারণে অনেক পরিবার এর স্বাদ নেওয়ার সামর্থ্য হারাবেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com