সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
সন্ত্রাসী পাহারায় চলছে আ.লীগ নেতার অবৈধ ইটভাটা প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ও চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য গ্রেপ্তার হালিশহরে ১১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা ও নারীসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যু রাজনৈতিক কৌশল, বললেন ট্রাম্প শ্রীমঙ্গলে ”সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি” আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত ভূঞাপুরে এক মাসের শিশু বাচ্চা কে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে দেওয়া হয় কুকুর কামড়ানোর ভ্যাকসিন লোহাগাড়ায় চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মাদ্রাসা সুপার নিহত, আটক ১ রান্নাঘরে ফনা তোলে বসেছিল প্রাণঘাতী কোবরা, অল্পের জন্য রক্ষা কুলাউড়ায় ডিবির অভিযানে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক ধামইরহাটে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ইউপি কার্যালয়ে ফেরানোর নেপথ্যে কুচক্রী মহল

পেশায় একজন মুদি দোকানদার। দোকানে কেনাকাটার সূত্রে গত ৪/৫ মাস পূর্বে ভিকটিমের সাথে অভিযুক্তের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে একে অপরের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনুমান ০২মাস আগে অভিযুক্ত আদনান জিসানের বর্তমান ঠিকানার বাসায় ফিরতে বেশি রাত হলে গেইট বন্ধ হয়ে যায়। নিজ বাসায় ঢুকতে না পারায় আদনান জিসান রাত্রীযাপনের জন্য ভিকটিম মোঃ শাহাদাত হোসেনের দোকানে গিয়ে তার বাসায় রাত্রীযাপন করতে চাইলে ভিকটিম মোঃ শাহাদাত হোসেন অভিযুক্ত আদনান  জিসানকে তার বাসায় নিয়ে যায়। রাতে শাহাদাতের শয়ন কক্ষে সে ঘুমিয়ে গেলে আদনান দেয়ালে ঝুলানো তার শার্টের পকেটে থেকে ১৫০০/-চুরি করে নেওয়ার সময় শাহাদাতের মোবাইলে ফোন আসায় সে জেগে গিয়ে দেখে ফেলে। পরবর্তীতে ভিকটিম শাহাদাত আদনানকে চুরির দায়ে মামলা করে জেল পাঠানোর ভয় দেখিয়ে বলৎকার করে। শাহাদাত এর স্ত্রী তার সাথে বাসায় বসবাস না করায় মাঝে মধ্যেই শাহাদাত আদনানকে বাসায় নিয়ে এবং দোকানের পিছনে চিপা গলিতে বলৎকার করতো।

ভিকটিমের সাথে সুসম্পর্কের সুবাদে আদনান প্রায় সময়ই তার দোকানে গিয়ে বসত এবং তার বেচাকেনায় সহযোগিতা করত। দোকনে অবস্থানকালে আদনান ভিকটিমের দোকানের ক্যাশ বক্সের চাবিটা বক্সের পাশে একটা কৌটার ভিতর রাখার বিষয়টা দেখতে পান। জিসান একপর্যায়ে ক্রাইম পেট্রোল দেখে ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং চট্টগ্রামস্থ নিউমার্কেট এলাকা হতে ৪০০/- টাকা দিয়ে একটি টিপ ছোরা ক্রয় করে নিজ সঙ্গে রাখে। ঘটনার ০২দিন আগে অর্থাৎ ২৮-০৭-২০২২ তারিখ রাতে ভিকটিম মোঃ শাহাদাত হোসেন অভিযুক্ত আদনান  জিসানকে ভিকটিমের দোকানের পিছনে ঘটনাস্থলের পাশে বলৎকার করে। তখন আদনান জিসানের ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলেও সাহস করতে না পারায় হত্যা করেনি। পরের দিন অর্থাৎ ২৯-০৭-২০২২ তারিখ ভিকটিম আবারও তাকে একই উদ্দেশ্যে মোবাইলে কল করে ডাকেন। অভিযুক্ত অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় পরের দিন দেখা হবে বলে জানায়।

গত ৩০-০৭-২০২২ তারিখ ভিকটিম অভিযুক্তকে আবারও তার দোকানে আসতে বলেন। আদনান ইং ৩০-০৭-২০২২ তারিখ রাত্র অনুমান ১১.৩০ ঘটিকা হতে ভিকটিমের দোকানের সামনে ও দোকানের আশেপাশে অবস্থান করতে থাকে। ভিকটিম ৩১-০৭-২০২২ তারিখ রাত্র অনুমান ০১.২০ ঘটিকার সময় বলাৎকারের উদ্দেশ্যে তার দোকান বন্ধ করে আদনানকে দোকানের পিছনে বাথরুমে নিয়ে যায় এবং কেউ না দেখতে পারার জন্য ভিকটিম লাইট বন্ধ করে দেয়। ভিকটিম আদনানকে বলৎকার করার জন্য পুনরায় উদ্দত হলে আদনান  জিসান তার ডান পকেট হতে ছোরা বের করে ভিকটিমের পেটে সজোরে ঢুকিয়ে দেয়। ভিকটিম চিৎকার করে উঠলে সে ভিকটিমের গলা চেপে ধরে ভিকটিমের পেটে পর পর ০৩ বার, রানে ০১ বার ও হাতে ০১ বার ছোরা ঢুকিয়ে দেওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য বুকে সজোরে ছোরা ঢুকিয়ে দেয়। ভিকটিমের মধ্যে ধস্তা ধস্তির একপর্যায়ে আদনানের বাম হাত সামান্য কেটে যায় । ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আদনান  জিসান ঘটনাস্থলে ৭/৮ মিনিট অবস্থান করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে হাটু গেড়ে বসে ভিকটিম শাহাদাতের এক পকেটে থাকা দুইশত টাকাসহ দোকানের চাবি এবং অপর পকেটে থাকা নকিয়া বাটন মোবাইলটি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের দোকানের পাশে এসে চাবি দিয়ে দোকান খোলার জন্য দোকানের নিকটে আসলে পাড়ার নাইটগার্ড সাগরকে দেখতে পেয়ে মুখে রুমাল বেধে দোকানের পাশে বৈদ্যুতিক পিলারের পিছনে গিয়ে দাড়ান। জিসানের অবস্থান বুঝতে পেরে পাহারাদার সাগর দুর থেকে তার দিকে লক্ষ্য করে আছে বুঝতে পেরে ভয় পেয়ে সে দোকান না খুলে চলে যান। ঘটনার পরে ০২দিন আদনান চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করলেও স্থির হতে না পেরে নিজের বোনের বাড়ী আনোয়ারা থানাধীন তেকোটা এলাকায় চলে যান।

পরবর্তীতে গত ইং ০১-০৮-২০২২ তারিখ ডবলমুরিং মডেল থানাধীন দাইয়াপাড়া, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোলেমান মিয়ার বাড়ীর নিচে ”মা ষ্টোর” প্রঃ শালকর মুদি ও কসমেটিক্স দোকানের পিছনে পরিত্যাক্ত ভাড়া ঘরের সামনে টয়লেটের ভিতর জনৈক মোঃ শাহাদাত হোসেন(৩২) এর লাশ পাওয়া যায়। বর্নিত ঘটনায় ডবলমুরিং মডেল থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।

মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মুহাম্মদ আলী হোসেন এর সার্বিক দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব সামীম কবির এর তত্ত্বাবধানে এসআই মোহাম্মদ রাজীব হোসেন ও এসআই মোঃ রবিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় স্পেশাল টিমের অফিসার ও ফোর্সসহ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারের জন্য মাঠে নামে।

হত্যাকান্ডের কোন ক্লু না থাকায় মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের স্পেশাল টিম চুলচেরা বিশ্লেষন ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নিয়োজিত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আশ-পাশের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, এলাকার নাইট গার্ডসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ঘটনার বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের নানামুখি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলতে থাকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার। ভিকটিমের মোবাইলের কল লিষ্ট পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম মহানগরসহ আশপাশের থানা সমূহে অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন তেকোটা এলাকা হতে মোঃ আদনান @ জিসান(২০)কে ভিকটিমের চুরি যাওয়া মোবাইলসহ গ্রেফতার করা হয়।পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থলের পাশ হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com