বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অধীন পাঁচলাইশ থানার ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসমাইল হোসেন ও তাঁর সমর্থকেরা।
শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
সংগঠনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা, সমন্বয়হীনতা এবং অধিকাংশ সদস্যের অনাস্থার কারণ দেখিয়ে মো. ইসমাইল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের সিদ্ধান্তে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ পারভেজকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের অভিযোগ
অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে নিয়মবহির্ভূত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ইসমাইল হোসেন ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর সপক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা-ও তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
ইসমাইলের সমর্থকদের আরও অভিযোগ, পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফির আলম শফির সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধের প্রভাব পড়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
পদ হারিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ইসমাইলের
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়েছেন মো. ইসমাইল হোসেন। তাঁর ভাষ্য, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পরও এমন সিদ্ধান্তে তিনি মর্মাহত।
ইসমাইল হোসেন বলেন, “যে দলের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলা ও ত্যাগের শিকার হয়েছি, আজ সেই দলের কারণেই আমাকে চোখের পানি ফেলতে হচ্ছে! কোনো প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমাকে এভাবে বিনা নোটিশে পদচ্যুত করা চরম অন্যায্য।”
সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের বক্তব্য শোনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, ইসমাইল হোসেনের অব্যাহতির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে: প্রকাশের আগে অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি, প্রযোজ্য সাংগঠনিক বিধি এবং সংশ্লিষ্ট মহানগর ও থানা নেতাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।