রবিবার, ২৬ Jul ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
ইঞ্জিনের সংকটে কমেছে পণ্য সরবরাহ, বেড়েছে রাজস্ব বন্যায় কক্সবাজারে ২৩ মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ বান্দরবান-রাঙ্গুনিয়া সড়কে সেতু ধসে পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সাতকানিয়া নৌকায় ভাসিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন স্বজনেরা  চট্টগ্রামে বন্যায় ভেসে গেছে ৯৯৩৩টি পুকুর-দিঘির মাছ,ক্ষতি হয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৮ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক পানিবন্দী মানুষের চরম খাদ্য বিশুদ্ধ পানির সংকট বিত্তশালী সামর্থ্যবানদের কাছে আর্তনাদ অটোরিকশা উদ্ধারের নামে পুলিশ প্রশাসনের নামে টাকা আত্মসাধ করল কথিত সাংবাদিক ডবলমুরিংয়ে জাতীয়তাবাদী ব্যাটারি চালিত থ্রি হুইলার যান শ্রমিক দলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ১৫৭টি মোবাইল- ল্যাপটপ নিয়ে পার্টি সোহেলসহ গ্রেপ্তার ৫

খাদ্য সংকটে বন্যাহাতির পাল লামার লোকালয়ে, আতঙ্কে এলাকাবাসী

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

লামায় খাদ্য সংকটে থাকা বন্যহাতির পাল এখন ঘনঘন লোকালয়ে এসে চাষিদের রোপিত ফসল, কলাবাগানসহ সৃজিত বাগান খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এ কারণে আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলা ফাইতংয় ইউনিয়েনের ৫নং ওয়ার্ডের খেদারবান এলাকায় বন থেকে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসে আনোয়ার হোসেন নামের এক কৃষকের বাগানের ২শতটি কলা গাছ খেয়ে ফেলে এবং রোপিত সবজি ক্ষেতও খেয়ে ফেলে। একই রাতে ইউনিয়নের আরো তিনটি এলাকায় বন্য হাতির পাল হামলা চালায়। এতেও কৃষকদের মোট অর্ধসহস্রাধিক কলাগাছ খেয়ে ফেলে কয়েক লক্ষ টাকার ফসলাধি ক্ষতি হয়। বন্য হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিনিয়ত রাতে একদল বন্য হাতি বাগানে ও সবজি ক্ষেতে ঢুকে খেয়ে ফেলছে। হাতিগুলো যেদিক যায় সে দিকে হাতির পায়ের পৃষ্টে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া হাতির ভয়ে এলাকাবাসী রাতযাপন করতেও পারছেনা। যে কোন সময় হাতির পাল চলে আসে। এ এলাকায় তিন থেকে চারটি হাতিরপাল রয়েছে। আমার বাগান ও ক্ষেত নষ্ট করেছে ৩থেকে ৪টা হাতি। হাতির পাল নিয়মিত তান্ডব চালানোর ফলে আমার অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে। শনিবার সকালে আমি বাগানে গিয়ে দেখি বন্য হাতি গুলো আমার বাগানে অবস্থান করছে। হাতিগুলো তাড়ানোর পর বাগান ঘুরে দেখি ২০০ এর অধিক গাছ খেয়ে ফেলেছে। এতে আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ সময় আরও বলেন, হাতির বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ লামা বনবিভাগের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে আমার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। এলাকার আরো কয়েকজন কৃষক জসিম, ইকবাল, মুবিন, রাকিব, আব্দুর রাজ্জাক, হেলাল উদ্দিন, শাহাজাহান বলেন, একই রাতে খেদারবান, সুতাবাদী,নয়াপাড়া এলাকায় অনেক অসহায় পরিবারের বাড়িতেও তান্ডব চালিয়েছে এই হাতির দল। রাতে পাহাড়ি হাতি এসে তাদের বাড়ি ও কৃষি জমিতেও তান্ডব চালিয়ে কলা বাগান, সবজি খেত সহ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। হাতি গুলো তান্ডব চালিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক কলা গাছ খেয়ে ফেলে। লামা বন বিভাগের আওতাধিন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিব বলেন, ২৪ জানুয়ারী দিবাগত রাতে ফাইতংয়ের চারটি এলাকায় বন্য হাতির পাল হামলা চালায়। এতে কৃষকদের ফসল ও বাগানের কলা গাছ খেয়ে ফেলে। লামার পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা এম রুহুল আমিন বলেন, পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ে থাকা হাতিগুলো প্রায় পাহাড় থেকে নেমে এসে গ্রামে ঢুকে পড়ে। এরপর মানুষের বসতঘর ভাংচুর করে ফসল ও বাগানের গাছ গাছালি নষ্ট করে ফেলছে। শীত মৌসুমে ধান খাওয়ার জন্য পাহাড় থেকে হাতি নেমে আসে লোকালয়ে। যেখানে হাতির বসবাস ছিলো সেখানে মানুষের আনাগোনা বাড়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি আরও বলেন, ফাইতং এলাকায় যে বন্যহাতি আসলো সেগুলোকে পাহাড়ের ভিতরে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা দরকার। লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বন্য হাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনকে নিকটস্থ বনবিভাগের আওতাধিন ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার বরাবরে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন গ্রহন করতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, লামার বন্য হাতির আবাসস্থলে মানুষ বসতি গড়ে তোলে হাতি বাসস্থান ও খাদ্যের যায়গাগুলো নষ্ট করে ফেলেছে। সে কারণে পাহাড়ে খাদ্য সংকট তৈরি হওয়ায় বন্যহাতি লোকালয় চলে আসছে। এছাড়া হাতির আবাস্থল নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনকে সর্তক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com