শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় টানা অবিরাম বর্ষণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তথ্য জানিয়েছেন চাষিরা ।
সরেজমিনে ঘুরে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় ধানগাছ হেলে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পাকাধান নিয়ে উৎকন্ঠা আর আতঙ্কে আছে কৃষকেরা। রোদ না থাকায় এবং বৃষ্টির পানিতে ধান তলিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদিত খাদ্যের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল । এখন বোরো ধান কাটা মারায়ের ভরা মৌসুম, মাঠ থেকে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করার কথা কৃষক-কৃষাণীদের। কিন্তু কৃষকের সেই ব্যস্ততা নেই, নেই কৃষকের মুখে হাসি। কৃষকের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। ধানের উপযুক্ত মূল্য না পাওয়া, বৈরী আবহাওয়া, চড়া দামেও কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষকেরা। বর্তমানে হাট-বাজার গুলোতে নতুন ধান প্রতিমণ (৪০+৭)কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এবার বোরো ধান চাষাবাদে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও ওঠবে না কৃষকের। ধানের শীষে দোল খাওয়া কৃষকের সোনালী স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বড়খাটামারী গ্রামের কৃষক আলম মিয়া , সফিকুল ইসলাম টুলু, আমিন ডাক্তার, মোজাফফর হোসেন বলেন অনেক কষ্টে বোরো ধান চাষ করেছি। সাতদিন হলো ধান কেটে এনেছি। বৃষ্টির কারনে ধান শুকাতে পারিনি অধিকাংশ ধানের চারা গজায় গেছে।
পাইকেরছড়ার আরেক কৃষক আবুছালেহ বলেন পাচঁ বিঘা জমি ধান চাষ করেছি। পাঁচ দিন হলো ধান কেটেছি রৌদ না থাকার কারণে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে এমনকি অনেক ধানে গাছ গছিয়েছে। এবং কীটনাশকের দোকানে অনেক টাকা বাকি কিভাবে কি করবো তা নিয়ে হতাশায় পড়ে আছি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক নাছির উদ্দিন জানান, ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল দেড় বিঘা জমিতে প্রায় ৩২ মণ ধান হওয়ার কথা কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব ধান নষ্ট হয়েগেছে। দেড় বিঘা জমির ধান ৫ হাজার ৫০০ টাকা চুক্তিতে কেটে এনেছি। কিন্তু ধান হয়েছে সাড়ে দশ মণ। এখন লোকসানের ঘানি টানতে হবে।
তিলাই ইউনিয়নের কৃষক আঃ রহিম বলেন নিজে গায়ে খেটে জমি বর্গা নিয়ে তিন বিঘা ধান আবাদ করেছি। বৃষ্টির কারনে ধান কাটতে পারছিনা। মাটিতে ধান গাছ হেলে পরে ধান হতে আবার চারা গজিয়েছে। আমাদের দুঃখ কষ্ট কে দেখে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৬ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে ইরি -বোরো ধান আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে হাইব্রীড ৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর, উফসি ৭ হাজার ৪২৮ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৭ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছেন কৃষক। আর ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৯২.৯২ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের খোঁজ খবর রেখেছি। সময়মত সার কিটনাশক প্রয়োগসহ নানা পরামর্শ দেয়ায় উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল । কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কৃষক বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।