মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ৬২ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, ১৭ বাংলাদেশি নিহতের খবর; ১৩ জন নওগাঁর মৌলভীবাজার চোলাই মদ ও ইয়াবাসহ আটক ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ গ্রেপ্তার ৩ নওগাঁয় এলজিইডি কার্যসহকারীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার মানবিকতার অনন্য নজির: ছেলের হাতে নির্যাতিত বৃদ্ধা মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিলেন ওসি মিন্টু রহমান ইঞ্জিনের সংকটে কমেছে পণ্য সরবরাহ, বেড়েছে রাজস্ব বন্যায় কক্সবাজারে ২৩ মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ বান্দরবান-রাঙ্গুনিয়া সড়কে সেতু ধসে পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সাতকানিয়া নৌকায় ভাসিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন স্বজনেরা 

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৮ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামে শুধু জনজীবনই নয়, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, ভেঙে গেছে সেতু-কালভার্ট, বিচ্ছিন্ন হয়েছে অনেক এলাকার যোগাযোগ। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট এবং ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জনে। পাহাড়ধস, দেয়ালধস এবং পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। এ দুই উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। পাশাপাশি লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার সাতকানিয়ার বন্যাদুর্গত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। তবে বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে এবং উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ টন চাল এবং ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০০ টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ত্রাণ হিসেবে আরও ৪০০ টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার জন্য পৃথকভাবে ২৫ টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এছাড়া পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত শনিবার থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বুধবার জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে ১৩টি প্লাবিত হয়। বন্যার পানি বৃহস্পতিবার থেকে কিছু এলাকায় নামতে শুরু করলেও শুক্রবার পর্যন্ত সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ একাধিক উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দী ছিলেন। বিভিন্ন সড়কে এখনো স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল। সড়ক ও সেতুর পাশাপাশি কৃষিজমি, মাছের ঘের ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com