মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
নাইক্ষ্যংছড়ি বাইশারীতে অবৈধ ইটভাটায় যৌথ অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা চট্টগ্রামে ১৬ থানায় সিএমপির ‘এস ড্রাইভ’ অভিযান, এক রাতে গ্রেপ্তার ৬৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক পৃথক অভিযানে ভারতীয় ১০ গরু জব্দ নেত্রকোনা পৌর প্রশাসকের দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনায় নেত্রকোনা পৌরসভাকে দাড় করিয়েছে এক নতুন মাত্রায় বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম ২০২৬-২৭ এর নতুন কমিটি ঘোষণা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন আয়োজনে সরকারি যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলে লেবু সিন্ডিকেট ও কৃষি পণ্যের দোকানে অনিয়ম, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বান্দরবানে পাঁচ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নওগাঁ দীর্ঘ দিনপরে শুরুহবে ১২০০ কোটি টাকার ফোরলেন রাস্তা শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল ও সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম নগরী যেন ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য, ব্যবহৃত হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র-১১ মাসে ৯০ মামলা

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য দেখা যাচ্ছে। তারা এখন কেবল ছুরি বা দেশি অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, ব্যবহার করছে আগ্নেয়াস্ত্রও। নগরবাসীর ভাষায়, আগের মতো শুধু রাত নয়, এখন দিনভর যেকোনো সময়েই ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

পরিচিত পথগুলোই হয়ে উঠেছে অচেনা ও বিপজ্জনক। বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের ধরন ও কৌশলে এসেছে পরিবর্তন। আগের মতো সিএনজি ব্যবহার নয়, এখন তারা ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও দ্রুতগতির মোটরসাইকেল। মুখে মাস্ক, মাথায় হেলমেট থাকায় তাদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

পুলিশ জানায়, অনেক সময় গ্রেপ্তার হলেও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ছোট অপরাধীরা ধরা পড়লেও, হোতারা থেকে যাচ্ছে অধরা। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, ছিনতাইকারীরা এখন নিজের এলাকা ছেড়ে অপরিচিত এলাকায় গিয়ে ছিনতাই করছে।

 

তারা বাসার কাজের লোক, গাড়িচালক, হকারদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। ক্যামেরা এড়িয়ে চলতেও তারা দক্ষ। আইনজীবী মীর শফিকুল বিজন বলেন, মামলা হালকা ধারায় রুজু হলে জামিন পাওয়া সাধারণ ঘটনা। এ বিষয়ে আইনজীবীদের কোনো হাত থাকে না। আদালত যুক্তি বিবেচনায় জামিন দেন।

নগরের কোতোয়ালি, বায়েজিদ, সদরঘাট, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, বন্দর, ডবলমুরিং, চকবাজারসহ প্রায় সব থানা এলাকায় ছিনতাইকারীদের উপস্থিতি নিয়মিত। গত ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত একটি অটোরিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরির ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেয়। এখনো বারগুলো উদ্ধার হয়নি।

 

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর লালদীঘি এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইসমাইল হোসেন। নগরে মোবাইল ফোন ছিনতাইও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। বাস বা রিকশায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করলেও অধিকাংশ ফোন আর ফিরে পাচ্ছেন না।

 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ছিনতাই দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে নগরবাসীর মতে, এই অভিযান চোখে পড়ার মতো সুফল দিচ্ছে না। কলেজছাত্র সানি বলেন, ‘নগরের অলিগলি যেন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে।

 

দিন-রাত কোনো সময়ই নিরাপদ মনে হয় না।’ সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে ছিনতাই ও ডাকাতির ৯০টি মামলা হয়েছে। তবে নগরবাসীর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আতঙ্কে তারা একটাই প্রশ্ন করছেন—‘এই শহরে আর কবে নিরাপদ হবো আমরা?’

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com