বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদসহ ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন ১০ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি। তার দাখিল করা মনোনয়নপত্রে ভোটারদের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে বিএনপি নেতা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর দলীয় মনোনয়ন না থাকলেও, নিজেকে বিএনপি প্রার্থী উল্লেখ করেছেন। একারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেন নয়জন। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তারের দাখিল করা এক শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে ১০ জনকে যাচাই করা হয়। এরমধ্যে আটজন স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।একারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। একইভাবে নিয়মানুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় আহমদ কবিরের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়। দলীয় মনোনয়ন ও হলফনামা দাখিল না করায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া সমর্থনকারীর সাক্ষর না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং পাঁচজন জমা দেন। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ ছালামের মনোনয়নপত্রে দলের একাংশের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষর ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নই বৈধ। ফলে রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা ঋণখেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, রবিবার (৪ জানুয়ারির) পর চার দিনের মধ্যে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।