মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।

মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগ হট্রগোল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের সাথে জেলা আওয়ামী লীগের হট্রগোলের ঘটনা ঘটে। এসময় পুরো শহীদ মিনার এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘরে রাতে ১২ বাজার সাথে সাথে মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

জানাযায়, রাত ১২টা বাজার কিছু আগে শহীদ মিনারে কাছে আড়াআড়ি ভাবে অবস্থান নেয় জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, জেলা আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

এ সময় ক্ষমতাসীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কয়েকশত নেতা কর্মীকে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। এরই জের ধরে পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডা ও  হট্রগোল শুরু হয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের। এসময় পাশেই অবস্থানকারী পুলিশ সুপার মোঃ মানজুর রহমানের কাছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নেছার আহমদ ব্যারিকেড দেয়ার কারণ জানতে চান এবং ব্যারিকেড তুলে নেয়ার অনুরোধ করেন।

পরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ব্যারিকেড দেয়া নিয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সকলের শ্রদ্ধা জানানো শেষ হলে তারা শ্রদ্ধা জানাবেন। এসময় তিনি দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে কিছুটা পিছনে যান। এসময় পুরো শহীদ মিনার এলাকায় দেখা দেয় উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের সামনে ব্যারিকেড দেওয়ায় পুলিশের এমন আচরণে হতবাক হন নেতাকর্মীরা। তখন তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান দিতে থাকেন।

হট্রগোলের এক পর্যায়ে নির্ধারিত সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, জেলা শ্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক ড. উমি বিনতে সালাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর রহমান।

এর পর কিছু সময় শহীদ মিনারে ফুল দেয়া থেমে যায়। পরে শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশ থেকে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসসদ সদস্য মোঃ জিল্লুর রহমানের প্রতিনিধি ফুলের তোরা নিয়ে ও শহীদ মিনারের সম্মুখ থেকে ক্ষমতাসীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েকশত নেতা কর্মী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ফজলুর রহমান, জেলা বিএনপি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণঃপুর্ত বিভাগ, সদর হাসপাতাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ভয়েজ অব মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নেছার আহমদ জানান, যে সব পুলিশ সদস্য ব্যারিকেড দিয়ে আমাদের সামনে হাতে হাত ধরে যারা দাঁড়িয়েছিল তাদের কোন দোষ ছিলনা। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে পলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। সুন্দর সুশৃংখল ভাবে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিবেন এ বিষয়ে আমরাও দীর্ঘদিন থেকে সহযোগীতা করে আসছি।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ মনজুর রহমান জানান, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সকলের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনি দেয়া হয়েছিল। উক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি সব সময় ওইসব অনুষ্ঠানে থাকে। রাত ১২টা বাজার ১ মিনিট আগে ছেড়ে দেয়া হয়। নিরাপত্তার বাহিরে কোন কাজ করেনি পুলিশ। তবে কি কারণে বাঁধার বিষয়টি এসেছে এটি খুঁজে দেখা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com