শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিরোধী শক্তি একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত নৈতিক চরিত্র ও দৃঢ় ঈমান সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। এ দুই শক্তি অর্জন করতে পারলে বিরোধীরা কখনো পরাজিত করতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক ও আদর্শিক শক্তি অর্জনের মাধ্যমে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি সংগঠনের কর্মীদের আদর্শিক মান উন্নত করতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রামের কেরানীহাট সি ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের হলরুমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, কর্ণফুলী ও কালারপোল থানা এলাকার রুকনরা অংশ নেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক।
জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর ড. মাওলানা হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা আবুল ফয়েজ, নুরুল হক, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আ ক ম ফরিদুল আলম, মাওলানা আরিফুর রশিদ এবং অফিস ও মানবসম্পদ বিভাগের গিয়াস আজাদ চৌধুরী।
এ ছাড়া সাতকানিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল উদ্দীন, পটিয়া উপজেলা আমীর মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক থানা আমীর মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, কালারপোল থানা আমীর মাস্টার এস এম নাছির উদ্দীন, সাতকানিয়া পৌরসভা আমীর অধ্যক্ষ হামিদ উদ্দীন আজাদ, বোয়ালখালী পৌরসভা আমীর মাস্টার মুহাম্মদ হারুন ও কেরানীহাট শাখার আমীর মাওলানা নাছির উদ্দীনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ পরিহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর অভিযোগ, জনগণের এই সম্পৃক্ততাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্র করছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি নির্বাচনে দলীয়করণ, ভোটারদের হুমকি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মীদের মান উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে দায়িত্বশীলদের ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক প্রসঙ্গে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মাদক যুবসমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। তাঁর অভিযোগ, অতীত সরকারের সময়ে মাদকের বিস্তার ঘটেছে এবং বর্তমান সরকারও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশকে মাদকের হাত থেকে রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সততা, নৈতিকতা এবং আল্লাহর প্রতি ভয় বজায় রাখতে হবে। আয়-উপার্জন, ব্যয় নির্বাহ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা অনুসরণের পাশাপাশি আল্লাহর হক ও বান্দার হক যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে রুকনদের উন্নত চরিত্র গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক জাফর সাদেক বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলে দ্বীনকে জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
রুকনিয়াতের মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে রুকনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিষ্ক্রিয়তা ও নৈতিক স্খলন থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত আত্মসমালোচনা, ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহির অনুভূতি জাগ্রত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, জ্ঞান অর্জনে শিক্ষাশিবিরের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজন রুকনদের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়াতে সহায়ক হবে। ইলম চর্চা ও আমলি জীবন সুন্দর হলে সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।