সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
____________________________
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম, যা চট্টগ্রাম শহরকে কক্সবাজারের সাথে সংযুক্ত, এ’ মহাসড়ক এখন উদ্বেগের আরেক নাম। বিশেষ করে লোহাগড়া উপজেলার চুনতি সীমানা থেকে আজিজনগর সিটি গেইট পর্যন্ত অংশটিকে স্থানীয়রা “দুর্ঘটনার করিডোর” হিসেবে অভিহিত করছেন। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। এতে জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। বিশেষজ্ঞদের মতে চট্টগ্রাম-
কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা (২০২৯ সালের লক্ষ্যমাত্রা) যানজট ও পণ্য পরিবহনে গতির জন্য অপরিহার্য হলেও, শুধুমাত্র লেন বৃদ্ধি নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। উচ্চ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফ্লাইওভার (কেরানীহাট), বাইপাস নির্মাণ এবং পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।চার লেন বনাম সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা: একনজরেচার লেনের প্রয়োজনীয়তা: বর্তমান ১৮-২২ ফুট প্রশস্ত সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চার লেনে উন্নীত হলে ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং পর্যটন নগরীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন হবে।কেন শুধু লেন সমাধান নয়: চুনতি অভয়ারণ্যের মতো সংবেদনশীল এলাকা দিয়ে সড়কটি চলায় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া, অপরিকল্পিতভাবে চার লেন করলে দুর্ঘটনা কমার নিশ্চয়তা নেই।সমন্বিত নিরাপত্তার দাবি:বিকল্প ব্যবস্থা: পটিয়া, দোহাজারী, লোহাগাড়া, চকরিয়ায় বাইপাস ও কেরানীহাটে ফ্লাইওভার নির্মাণ।স্মার্ট ট্রাফিক ও মনিটরিং: সিসিটিভি ক্যামেরা, স্পিড গান এবং ওয়েব্রিজ স্থাপন।পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা: চুনতি এলাকায় আন্ডারপাস বা ওভারপাস তৈরি।প্রকল্পের উচ্চ ব্যয় (কিলোমিটার প্রতি প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে) নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন প্রশ্ন তুললেও, নিরাপত্তা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরু দুই লেনের মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অদক্ষ চালকদের কারণেই দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একই সড়কে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও স্থানীয় যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বিপজ্জনক বাঁক, অপরিকল্পিত বাজার, অবৈধ স্টপেজ ও দুর্বল আলোকসজ্জাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।লোহাগাড়া জোনে কর্মরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হাসানুজ্জামান হায়দারের মতে,মহাসড়কের পাশে বা ওপর মাজার, মসজিদ বা যেকোনো স্থাপনা থাকা নিঃসন্দেহে রাস্তা চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। মহাসড়ক বা জনবহুল রাস্তার পাশে মাজার বা ধর্মীয় স্থান থাকলে সেখানে পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা এবং গতি কমানোর জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায় এবং শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখে।মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে চালকদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান একটি অত্যন্ত জরুরি এবং কার্যকর পদক্ষেপ। অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সচেতনতার অভাবই বাংলাদেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৪ বা ৬ লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
বাকি অংশ দ্বিতীয় পৃষ্ঠে