বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তর-কে ঘিরে আবারও অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইএম) আশরাফুল হক এবং ঠিকাদার মো. সাইদুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এই দুজনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতিতে প্রভাব এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের ইএম বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, ঠিকাদার সাইদুল ইসলাম গত কয়েক বছরে দ্রুত ব্যবসায়িক বিস্তার ঘটিয়েছেন। বিভিন্ন বড় প্রকল্পে তার অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতা সনদসহ অন্যান্য নথি ব্যবহার করে কাজ পাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শুধু টেন্ডার নয়, পদোন্নতি প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, বিভাগীয় পরীক্ষা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে প্রভাব ও আর্থিক লেনদেন ভূমিকা রাখছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু টেন্ডারে এমন বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পথ তৈরি করছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে চাপা আলোচনা চললেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে কী ঘটছে—তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।