সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহ আলম বলেছেন, শিক্ষা হচ্ছে আলো, সর্বত্র এ আলো ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষা অর্জন করে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে সে উদ্দেশ্যে আগামী প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে। বিশেষত নারী শিক্ষাকে বেশি বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কক্সবাজার জেলা’র চকরিয়া,হাসেরদিঘী হাজী আছদ আলী পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি উদ্ধোধন অনুস্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা,নজরুল ইসলাম খান, অন্যান্য শিক্ষক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন-‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড।
কোনো জাতিকে মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে হলে, তাকে শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হতে হবে। সঠিক বা সত্যিকার শিক্ষা না-থাকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ‘অশিক্ষিত’ হয়ে পড়লে জাতি কোনো দিনই মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারে না।’ এ ধরনের আপ্তবাক্য আমরা সব সময় শুনি। আমাদের সামাজিক মুরব্বি, আমাদের শিক্ষক এবং আমাদের গুরুজনরা এ কথা হরহামেশা বলে শিক্ষার গুরুত্ব আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। আমাদের প্রজন্মের অনেকেই এসব শুনে শুনেই বড় হয়েছি।
কিন্তু শিক্ষা বলতে আমরা আদতে কী বুঝি? কোন ধরনের শিক্ষাকে আমরা শিক্ষা বলব? শুধুই বিদ্যালয়কেন্দ্রিক রুটিনমাফিক পাঠদানকেই কি আমরা শিক্ষা বলব? নাকি, সত্যিকার জীবনমুখী শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মতো মানুষ হওয়াকে শিক্ষা বলব? আবার কোনটা সঠিক শিক্ষা বা কোনটা সঠিক শিক্ষা নয়, সেটার মানদন্ড কে নির্ধারণ করবে? এসব প্রশ্নও শিক্ষা আর জাতির মেরুদন্ড সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় আলাপমালায় উঁকিঝুঁকি মারে। তাই, এসব প্রশ্নের সঙ্গে আরামদায়ক বোঝাপড়া না-সেরে মেরুদন্ড বানানোর চিন্তা এবং চেষ্টা মেরুদন্ড এবং শিক্ষা দুটোর জন্যই কষ্টদায়ক হতে পারে। তাই, শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিধেয় ঠিক করা জরুরি।
পাশাপাশি, শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিরও একটা সঠিক মূল্যায়ন জরুরি। মাঝেমধ্যেই আমি স্যাটায়ার করে বলি, ‘বাংলাদেশে এখন শিক্ষার্থী খুব একটা চোখে পড়ে না, শিক্ষার্থী নামের যারা বিদ্যালয় বা বিদ্যার আলয়ে আছে তারা কোনো না কোনো বর্গের পরীক্ষার্থী।’ সবাই পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। কে কতটুকু শিখছে বা কে কতটুকু শিক্ষাগ্রহণ করেছে, তার চেয়ে সবাই বেশি ব্যতিব্যস্ত পরীক্ষা নিয়ে এবং পরীক্ষায় কে কতটা ‘জিপিএ’ পেল তা নিয়ে! পরীক্ষার্থীরা ব্যস্ত! শিক্ষকরা ব্যস্ত! পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও ব্যস্ত। সবাই ছোটাছুটি করছে।
পুরো জাতি যেন কিছু জিপিএর পেছনে ছুটছে। ফলে, শিক্ষা বলতে আমরা যা বুঝি, তা আসলে রুটিনমাফিক ফি-বছর পরীক্ষা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে উঠেছে। তাই, এই পরীক্ষার্থীরা কোন পুঁজি নিয়ে জাতির মেরুদন্ড হয়ে উঠবে, এবং জাতির মেরুদন্ড বিকাশে শক্ত অবদান রাখবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ের অবকাশ আছে। কেননা, যে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বিস্তারিত করে না, সমাজ-দেশ-রাষ্ট্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদান করে না, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নিয়ে একটা সাংস্কৃতিক মনস্তত্ত্ব তৈরি করে না, এবং একটা সত্যিকার দেশপ্রেমিক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলে না, তাকে কি আমরা শিক্ষা বলতে পারি? আর যে শিক্ষাকে সত্যিকার শিক্ষা বলতে পারি কি না, তা নিয়ে বিস্তর সংশয় আছে সে শিক্ষা দিয়ে একটি জাতির মেরুদন্ড কতটা শক্তভাবে, পোক্তভাবে, টেকসই ও মজবুতভাবে তৈরি করা যাবে, তা সত্যিকার অর্থেই ভাবনার বিষয়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে।
পরীক্ষার সময় নকল বন্ধ করা, কোচিং সেন্টার বন্ধ করা, বাজারে পাওয়া গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনা এবং শিক্ষার্থীরা যাতে কিছু নির্বাচিত প্রশ্ননির্ভর পরীক্ষা না-দিয়ে গোটা বইটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে, এবং যথাযথ পাঠোদ্ধার করতে পারে, তার জন্য নানান চেষ্টা করা হয়েছে।