শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
স্বাধীনতার পর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়। বদলেছে সরকার, বদলেছে জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নের নামে খরচ হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে আজও পৌঁছায়নি ন্যূনতম একটি ব্রিজ।
প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন—নিজেদের হাতে বানানো একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।
শত বছর ধরে এই সাঁকোই যেন রাষ্ট্রের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা! প্রজন্ম বদলায়, দুর্ভোগ বদলায় না গ্রামের প্রবীণ ও শতবর্ষী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জন্মের পর থেকেই এই খাল পার হতে দেখেছেন বাঁশের সাঁকো। তাদের সন্তান, নাতি—এমনকি পরবর্তী প্রজন্মও একই দৃশ্য দেখছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা তো বাঁশের সাঁকোতেই জন্ম নিছি, বাঁশের সাঁকোতেই মরতে হইবো মনে হয়।” এমপি আসে, আশ্বাস দেয়—ভোট নেয়, ভুলে যায় অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফতেহপুরবাসীর কাছে ‘ব্রিজ’ শব্দটি এখন আর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতারণার প্রতীক।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ—প্রতিটি নির্বাচনের আগে এমপি প্রার্থীরা এখানে এসে ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন, ছবি তোলেন, ভোট নেন। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর ফিরে তাকান না। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা এক বাসিন্দা বলেন, “কত এমপি আইলো গেলো—কাগজে উন্নয়ন হইলো, কিন্তু আমাগো খালের ওপর একটা ইটও পড়লো না।”