শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেফতার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী। পরে তাকে লোহাগাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম নুরুল আমিন (৩৫)। তিনি পেশায় একজন তবলা বাদক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নুরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে লোহাগাড়া মা-মণি হাসপাতালের পেছনে রফিকের কলনীর একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। তার স্ত্রীর আগের ঘরের ১২ বছর বয়সী এক কন্যাও একই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে নুরুল আমিনকে তার সৎ কন্যার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেন তার স্ত্রী। এ সময় তিনি স্থানীয়দের ডেকে এনে বিষয়টি জানালে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে লোহাগাড়া সেনা ক্যাম্পে খবর দেওয়া হলে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে তাকে লোহাগাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন,“অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এলাকাবাসীর দাবি, রফিকের কলনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তদের আনাগোনা ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ইয়াবাসহ মাদকের অবাধ চলাচল এলাকাটিকে অপরাধপ্রবণ করে তুলেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের আরও দাবি, নুরুল আমিন দীর্ঘ সময় ধরে মায়ানমার থেকে এসে লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে আসছেন। যদিও তিনি ও তার স্ত্রী নিজেদের কক্সবাজার জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন, এলাকাবাসীর মতে নুরুল আমিনের প্রকৃত বাড়ি মায়ানমার (বার্মা)। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।