মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন কালে ৫২বিজিবির টহল বাহিনীর হাতে ২৪ টি পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চ বিস্ফোরক টিউব, ২৩ টি ডিটোনেটর, ১৫ মিটার ডিটোনেটর কর্ড ও ০৩ টি পাইপ গান উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য দেন ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. আতাউর রহমান। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খবর পান মঙ্গলবার ভোর রাতে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার নিউ পাল্লাথল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম-এর নিকট দিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী উচ্চ বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আতাউর রহমান, এসইউপি-এর নেতৃত্বে একটি টহল দল এবং বড়লেখা উপজেলার নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প (ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়) হতে মেজর এম জাহিদ সহ আরও একটি টহল দল নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দূর থেকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভির তল্লাসীকালে সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম হতে প্রায় দুই/তিনি কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাধরম এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এ উচ্চ বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও অস্ত্রের মধ্যে ছিল পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চ বিস্ফোরক- ২৪ টি টিউব (ভারতের এসবিএল এনার্জি লিমিটেড, নাগপুরে প্রস্তুত)। ডিটোনেটর- ২৩ টি, ডিটোনেটর কর্ড- ১৫ মিটার ও পাইপ গান- ০৩ টি তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের উচ্চ বিস্ফোরক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।