মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং মামলার জের ধরে এক অটোচালককে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জাফর আলম নামের ওই চালকের ওপর পরিকল্পিতভাবে এ চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনা পুরোপুরি ধরা পড়েছে পার্শ্ববর্তী সিসিটিভি ফুটেজে। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর সকালে ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডের আনু মিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যরা সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে জাফরের অটোরিকশায় ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর পানি কেনার অজুহাতে গাড়িটি থামিয়ে চালককে দোকানে পানি আনতে পাঠানো হয়। এ সময়ে যাত্রীবেশী পুলিশ সদস্য নিজের ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে অটো পেছনে রেখে যান। পরবর্তী সময় অটোচালক পানি নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকে ওত পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে। এরপর অস্ত্র জোর করে তার হাতে ধরিয়ে ফটোশুট করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে গালাগালও করা হয়। এই ‘অপারেশন’ পরিচালনা করেন ঈদগাঁও থানার বিতর্কিত এসআই বদিউল আলম, ওসির গানম্যান কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনির। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে পুরো ঘটনা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করছে, এলাকার বখাটেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের হেনস্থা চালাচ্ছিল। জাফরের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, তার স্বামী কখনও এমন কাজ করতে পারে না; দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। মেয়ে লীজা মনি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, স্কুলে যেতে ভয়ে অন্য বাড়িতে থাকতে হয় এবং পুলিশ উল্টো বখাটেদের পাশে থেকে তাকে ফাঁসিয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত—জাফর আলমকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ঘটনাকে স্থানীয়রা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে দেখছেন। এলাকার প্রভাবশালী বখাটে ও তাদের পরিবারের প্রভাব পুলিশ প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।