শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
মোঃ সেলিম উদ্দিন খাঁন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পর গত ৫ আগস্ট নগরীর থানা ও পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় নগরীর ছয়টি থানা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। অস্ত্রাগার ভেঙে লুট করা হয় অস্ত্র ও গুলি। ৫ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে একযোগে নগরীর ১৬ থানার মধ্যে ১০টিতে আগুন দেয়া হয়। সবেচেয়ে বেশি লুটপাট হয় ছয়টি থানায়। থানাগুলো হলো- কোতোয়ালী, পাহাড়তলী, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও হালিশহর। এসব থানার অস্ত্রাগার ভেঙে লুট করা হয় অস্ত্র। উল্লেখযোগ্য অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- আমেরিকা ও ইতালির তৈরি ৬৫টি নাইন এমএম তারাশ পিস্তল, ৪৬টি চায়না রাইফেল, ৯৫টি শটগান, ২৯টি সেভেন পয়েন্ট ৬২ পিস্তল, ১৭৬৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩৮০০ চায়না রাইফেলের গুলিসহ নানা অস্ত্র। এর বাইরে রয়েছে গ্যাস হ্যান্ড গ্রেনেড, গ্যাসগান, টিয়ার গ্যাস হ্যান্ড গ্রেনেড। ছয়টি থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। গতবছরের ১৪ আগস্ট ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব-৭। তবে লুট হওয়া বেশিরভাগ অস্ত্র ও গুলি এখনও উদ্ধার হয়নি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট করা অনেক অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারপরও কিছু কিছু অস্ত্র এখনও বাইরে রয়ে গেছে। এ সময় চট্টগ্রামে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম এলাকাটা ভৌগলিকভাবে একটু ভিন্ন। এখানে পাহাড় আছে, সমুদ্রও আছে, প্লেন ল্যান্ডও আছে। অন্য কোথাও ভৌগলিক অবস্থান এরকম নয়। এ জায়গায় সমস্যাটা আছে। তারপরও কিছু কিছু উদ্ধার হচ্ছে, ইলেকশনের আগে আরও উদ্ধার হবে।কোতোয়ালী থানা: কোতোয়ালী থানার অস্ত্রাগারের তালা ও দেয়াল ভেঙে যেসব অস্ত্র লুট করা হয়েছে তা হলো- নাইন এমএম তারাশ পিস্তল ২৩টি, পিস্তলের ম্যাগাজিন ৬৩টি, গুলি ৫৫৭টি, চায়না রাইফেল তিনটি, রাইফেলের গুলি ২৬৮ রাউন্ড, চায়না এসএমজি দুটি, ম্যাগাজিন দুটি, গুলি ৬০ রাউন্ড, ১২ বোর শটগান ১০টি, শটগানের কার্তুজ ২১৮২ রাউন্ড, শর্ট ও লং রেঞ্জ শেল ১০টি এবং সাউন্ড গ্রেনেড ১০টি। এ ব্যাপারে গতবছরের ২২ আগস্ট ৪০ হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাস।
পিস্তলের গুলি ৭৭ রাউন্ড, চায়না এসএমজি একটি, শটগান একটি, চায়না রাইফেলের গুলি ৯০ রাউন্ড, শটগানের কার্তুজ ৫১৮ রাউন্ড, গ্যাস শেল লং রেঞ্জ একটি, সাউন্ড গ্রেনেড দুটি, টিয়ার গ্যাস হ্যান্ড গ্রেনেড একটি। এ ব্যাপারে গতবছরের ২৭ আগস্ট ১৬ হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হালিশহর থানায় মামলা করেন এসআই তৌফিকুল ইসলাম।
এছাড়া বন্দর থানার হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। ফাঁড়ি থেকে একটি শটগান, ১১ রাউন্ড কার্তুজ ও পাঁচ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। এ ব্যাপারে ছয় হাজার জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন এসআই কিশোর মজুমদার।