রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
আসছে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় নগরবাসীকে ৭০-৮০ ভাগ এলাকা জলজট মুক্ত থাকবে: চসিক মেয়র চুনতি রেঞ্জের হারবাং বিট কর্মকর্তাসহ বনকর্মীদের ওপর হামলা বান্দরবান,লামায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান : ২ লাখ টাকা জরিমানা মারামারির পর বাস চালাচ্ছিলেন ‘উত্তেজিত’ চালক, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪ আহত ২০ “মাঠে ফিরলেই বদলাবে তরুণ সমাজ”— নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান সিলেটের ডিআইজি ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা  শ্রীমঙ্গলে পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রির ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার মৌলভীবাজারে এসএ পরিবহনের গাড়ী থেকে অর্ধ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেটের ডিআইজি ও মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারকে বিদায় সংবর্ধনা এলডিপি ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দিলেন জাফর আহমদ চৌধুরী

পচা চাল মজুতের হোতারা আড়ালে

সোহেল রানা,রাজশাহীপ্রতিনিধি:
রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিতরণ ও বিক্রির চাল সংগ্রহ করে খেতে পারছে না ভুক্তভোগীরা। খাওয়ার অনুপযোগী এসব চাল বিভিন্ন সরকারি গুদাম থেকে সরবরাহ করছে খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পচা চাল বিতরণের অভিযোগ এসেছে। এতে ক্ষুব্ধ তালিকাভুক্ত উপকারভোগীরা। তাদের প্রশ্ন সরকারি খাদ্যগুদামে এত পচা চাল ঢুকল কীভাবে। পচা চাল মজুত ও সরবরাহকারীদের শনাক্তে খাদ্য বিভাগের উদ্যোগে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ১০টির বেশি তদন্ত কমিটি করা হলেও কমিটিগুলো মূল হোতাদের চিহ্নিত করার কাজটি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে খাওয়ার অনুপযোগী অতি নিম্নমানের পচা চাল জব্দ করে গুদাম সিলগালা ও বিতরণ বন্ধ করা হলেও এসব চাল সরবরাহ ও মজুতের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে খোদ খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে। খাদ্য বিভাগেরই বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানের অংশ হিসাবে এসব পচা চাল সরবরাহ নিয়ে মজুত করা হয়েছে বিভিন্ন খাদ্যগুদামে। খাদ্য বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তা ও সরবরাহ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে পচা চাল সংগ্রহ করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের মাঝে পচা চাল বিতরণ করা হয়। উপকারভোগী নারীদের অনেকেই চাল বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখতে পান সব চাল দুর্গন্ধযুক্ত, ছত্রাকধরা ও দলা বাঁধা। তারা এসব পচা চাল ফেরত দিয়ে যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। কালাই সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে এসব পচা চাল সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে এসব চাল ফেরত পাঠানো হয়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের মাঝে পচা চাল বিতরণ করা হয়। উপকারভোগী নারীদের অনেকেই চাল বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখতে পান সব চাল দুর্গন্ধযুক্ত, ছত্রাকধরা ও দলা বাঁধা। তারা এসব পচা চাল ফেরত দিয়ে যান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। কালাই সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে এসব পচা চাল সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে এসব চাল ফেরত পাঠানো হয়।খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, গত ১৬ আগস্টসহ গত মাসে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টিসিবির খোলাবাজার বিক্রয় কর্মসূচির আওতায় পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী চাল পাওয়া গেছে। মহাদেবপুরের সদর ইউনিয়নের মাতাজি রোডের একটি টিসিবি ডিলারসহ বিভিন্ন ডিলারের কাছে খাওয়ার অনুপযোগী চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। টিসিবি এসব চাল সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে কিনে তা ওএমএস ডিলারদের কাছে সরবরাহ করেন। ডিলাররা এসব চাল খোলাবাজার কর্মসূচিতে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেছেন। এ বিষয়ে মহাদেবপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের দাবি তারা টিসিবিকে যেসব চাল সরবরাহ করেছেন সেগুলো ভালো মানের চাল। এসব চাল টিসিবি কোথা থেকে কিনেছে তা তিনি বলতে পারবেন না। টিসিবির কর্মকর্তাই ভালো জানেন এসব চাল কোথা থেকে কোন চালকল থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন।খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় বিক্রি ও বিতরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকার মানুষ প্রায় ১৬ মেট্রিক টন চাল ভর্তি দুটি ট্রাক আটক করেন। পরে বস্তা খুলে দেখা যায় চালগুলো পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের চাল। এসব চাল রৌমারী খাদ্যগুদাম থেকে পার্শ্ববর্তী উলিপুর খাদ্যগুদামে স্থানান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এসব চাল পরে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রৌমারী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহকে দিনাজপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগে রৌমারীর ৬টি ইউনিয়নের ৪১ জন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে ২০ হাজার ২০২ জন কার্ডধারীর মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে বিক্রির জন্য ৬০৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই চাল বিক্রি শুরু হলে উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, তাদের দুর্গন্ধযুক্ত ও খাওয়ার অনুপযোগী পচা চাল দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার হালদার গত ১৬ সেপ্টেম্বর শৌলমারী ইউনিয়নের তিনটি ডিলার পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি পচা চাল বিক্রি দেখতে পান। তথ্যানুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্তের পর ইউএনও বাজারের চাল ব্যবসায়ী ময়নাল হকের দুটি গুদাম সিলগালা করেন। তিনি পচা চাল বিক্রি ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার হালদার শনিবার দুপুরে জানান, গুদামে পচা চাল সরবরাহ ও মজুতের পেছনে কতিপয় ব্যক্তি জড়িত বলে ধারণা করা যায়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কোনোভাবেই অসহায়-দুস্থদের মাঝে খাওয়ার অনুপযোগী চাল বিক্রি ও বিতরণ করতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসন এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এদিকে এর আগে গত ২৬ আগস্ট উপকারভোগীদের অভিযোগ পেয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুর খাদ্যগুদামে মজুত ৮০ মেট্রিক টন পচা চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন। পচা চাল সংগ্রহ ও মজুতের অভিযোগে দুর্গাপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বদলি করা হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ পচা চাল মজুত করে সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনার কয়েকদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর উপকারভোগীদের অভিযোগ পেয়ে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী ১ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পচা চাল জব্দ করেন। পচা চাল মজুতের অভিযোগে তিনটি খাদ্যগুদাম সিলগালা করেন। পচা চাল মজুতের অভিযোগে ভবানীগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার খাদ্যগুদামে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ খাওয়ার অনুপযোগী পচা চাল মজুত হলো-বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান শনিবার বলেন, খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে সরকারি কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করা আছে। গুদাম কর্মকর্তাদের কেউ হয়তো সেসব নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করেননি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com