বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ বিল্লাল হোসেন।  আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট রাসেল । যোগাযোগ : ০৩১-৭২৮০৮৫, ০১৮১১৫৮৮০৮০ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com জহুর উল্লাহ বিল্ডিং (৩য় তলা), পানওয়ালা পাড়া, চৌমুহনী, উত্তর আগ্রাবাদ ১২৭৭, চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
ভাষা শহিদদের প্রতি মৌলভীবাজার পুনাকের শ্রদ্ধাঞ্জলি মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশ আওয়ামী লীগ হট্রগোল শ্রীমঙ্গলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী’র উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবস পালিত ঢাকা-কক্সবাজার পথে পাঁচ দিনে ৫ ‘বিশেষ ট্রেন’ আর্জেন্টিনার ক্লাব ছেড়ে আবাহনীতে খেলবেন জামাল? নওগাঁ আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় মধ্যেদিয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস লোহাগাড়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন লোহাগাড়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির পুষ্প অর্পণ

সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই ‘হোঁচট’ খেয়েছেন চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনে হেভিওয়েট আট প্রার্থী

মোঃ সেলিম উদ্দিন খান , বিশেষ প্রতিনিধি 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই চট্টগ্রামের পাঁচটি আসনে হেভিওয়েট আট প্রার্থী ‘হোঁচট’ খেয়েছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে তথ্যে গরমিল, সেবা সংস্থার বিল বকেয়া, ঋণ খেলাপিসহ একাধিক কারণে এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রাথমিকভাবে হোঁচট খাওয়া এসব প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির একজন এবং বাকিরা সকলেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন।

 

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইকালে মোট ৩০ জনের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্তত আটজন স্ব স্ব এলাকায় প্রভাবশালী এবং নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।

 

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-চট্টগ্রাম-০১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী-চাঁন্দগাও) আসনে সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা এনপিপির আরশেদুল আলম বাচ্চু, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলুমরিং-হালিশহর) আসনে মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ ও আসনটির সদ্য প্রয়াত এমপি ডা. আফছারুল আমিনের ছেলে ফয়সাল আমিন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য পদত্যাগ করা সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান; চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

 

চট্টগ্রাম-০১ (মিরসরাই) : সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেল এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছন। ইতোমধ্যে তার মনোনয়নও বৈধতা পেয়েছে। তবে রুহেলের সঙ্গে মূলত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিনের। মনোনয়নপত্রে যাচাই বাছাইকালে সইয়ে গড়মিলের কারণে গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

 

এ প্রসঙ্গে গিয়াস উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব। প্রার্থিতা ফিরে নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। মিরসরাইয়ের মানুষ পরিবর্তন চায়।’

 

চট্টগ্রাম-০৮ (বোয়ালখালী-চাঁন্দগাও) : আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি নোমান আল মাহমুদ। তবে এই আসনে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাছাই-বাছাইকালে আবদুচ ছালামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

 

তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আবদুচ ছালাম। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর কে বলেন, ‘উচ্চ আদালতে আমি প্রার্থিতা ফিরে পাব। এলাকার উন্নয়নের জন্য স্থানীয়রাই আমাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়াচ্ছেন। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় সিডিএ চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে আমি হাজার হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন করেছি।

 

একাধিক ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ অনেক সড়ক নির্মাণ করেছি। তাই ভোটাররা আমাকে নিরাশ করবে না। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি অবশ্যই বিজয়ী হব। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলুমরিং-হালিশহর) : আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু্। ইতোমধ্যে তার মনোনয়নও বৈধ হয়েছে। তবে বাচ্চু সঙ্গে আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম ও মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ। দুইজনের মধ্যে মনজুর আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও ফরিদ মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

 

 

তবে প্রার্থিতা ফিরে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ফরিদ। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর কে বলেন, ‘যে সব ভোটার বাসা বদলেছে, অন্যত্র বসবাস করে তাঁরাও ভোটের দিন ভোট দিতে আসে। পুরনো ঠিকানায় খুঁজে ভোটারের অস্তিত্ব নেই এ অভিযোগ অত্যন্ত ঠুনকো। এই অজুহাতে ভোটারকে পাওয়া যাইনি বলা হচ্ছে। মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আমি নিয়মতান্ত্রিক পথেই পদক্ষেপ নিব। মানুষকে ভালোবেসেছি। মানুষ ভালোবাসার মুল্যায়ন করবেন এটা আমার আশা।’

 

 

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) : আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি নেজামুদ্দিন আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন। তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ হয়েছে। তবে নির্বাচনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব ও আ ম ম মিনহাজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে দুইজনই উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

 

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর কে বলেন, ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করব। তাই ঢাকায় যাচ্চি। এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়।’

 

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) : আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তার মনোনয়নপত্রও বৈধতা পেয়েছে। তবে নির্বাচনে মোস্তাফিজের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি মুজিবুর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। দুইজনের মধ্যে মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেলেও মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

 

 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর কে বলেন, তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। দুইদিনে বিভিন্ন কারণে ৩০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

 

 

তবে প্রার্থিতা ফিরে সকল বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সকলের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর জমা দিতে হয় মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। সেই সই থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই বাছাই করা হয়েছে। সেখানে অনেকের তথ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। এছাড়াও কয়েকজন ঋণখেলাপি ও সেবা সংস্থারবিল বকেয়া রয়েছে। তাই তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি।

 

 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com