রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।

নিলফামারীর হার না মানা ইমন একটি অটো হুইল চেয়ার চান

সত্যেন্দ্রনাথ রায়,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্তে¦ও হার মানেনি নীলফামারী ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুরের ইমন ইসলাম (১৭)জন্ম থেকেই পা দুটি প্যারালাইজড, নিজের কোন কাজই একা একা করতে পারেন না।সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মনের জোরে ২০২২ সালে পাঙ্গা মহেশ চন্দ্র লালা উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেছে ইমন।

তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারেনি। সে নীলফামারী সরকারী কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে এইচ এস সি একাদশ শ্রেনীতে অধ্যায়ন করছেন এখন। প্রমান করেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে অসম্ভব বলতে কোন কিছুই নেই।

কথা হলে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুজাফর সামসুদ্দিন বলেন পরাশোনার প্রতি ইমন ইসলামের ছিল প্রচন্ড আগ্রহ। বাবা মায়ের কোলে চড়ে আসত স্কুলে। আর দশজন ছাত্রের মত স্বাভাবিক না হলেও রোদ,বৃষ্টি,ঝড় কোনো কিছুই তাকে স্কুল থেকে দুরে রাখতে পারেনি।

ছেলের পরীক্ষার ফল প্রকাশে স্কুলসহ গর্বিত পুরো পরিবার ও এলাকা। আরো এগিয়ে যেতে চান তিনি। উপজেলা পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়রে ৬নং ওয়ার্ডের দিনমুজুর জিয়াউর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বর সন্তান ইমন ইসলাম। তার বাবা বলেন ২০০৫ সালে ইমনের জন্ম। 

জন্ম থেকেই সন্তানের এ অবস্থা চিকিৎসকের শরনাপন্ন হই। একলক্ষ টাকা চেয়েছিল পা দুটি অপারেশনের জন্য। অর্থাভাবে পারিনি চিকিৎসা করাতে। বড় হওয়ার পর আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বলেন আর সম্ভব না দুই পা কেটে ফেলতে হবে ছেলের।বাবা হয়ে এ কথা শোনার পড় মাথায় যেন আকাশঁ ভেঙ্গে পড়ছিল। ছেলের জীবন হয়ে গেল আজীবন পঙ্গু। ছেলে আর কখনো পারবেনা পা দিয়ে হাঁটতে। এমন সন্তানকে নিয়ে বড় অসহায় হয়ে পড়েছি।

অর্থাভাবে সন্তানের জন্য কিছু করতে না পারা যে কতটা কষ্টের সে বাবা হিসেবে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছিলাম, দুঃুখে,কষ্টে কথা গুলো বলতে বলতে চোখের জল মাটিতে খসে পড়ছিল ইমনের মা বাবা দুই জনের।

সরকারি সুবিধা বলতে প্রতিবন্ধি ভাতা জুটেছে। সাত সদস্যের পরিবার, সম্পদ বলতে ৩ শতাংশ বাড়ির ভিটে টুকু। ইমন থাকেন তার বড়আব্বা সাইদুল ইসলামের বাড়িতে।বাজারে সবকিছু জিনিষের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় দিন মুজুরি করা বাবার পক্ষে তার লেখাপড়া খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে।

ইমন পড়াশোনার জন্য একটি অটো চার্জার বা ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ার ও সহযোগিতা চান সমাজের বিত্তবান বান মানুষ ও সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে।এখন সে অনেক বড় হওয়ায় হামগুড়ি দিয়ে কলেজে যাওয়ায় ইমনের দুইপা ব্যথা করে । তার পরিবার থেকে কিনে দেবার মত সাধ্য নেই।

হুইল চেয়ারে করে সময় মত কলেজে যেতে চান ইমন । কারো দয়ায় প্রতিবন্ধকতা কে জয় করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে মা বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চান।পড়াশুনা করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের নিয়ে কাজ করতে চান ইমন ইসলাম। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় তারাও সহযোগিতা পেলে দেশ ও দশের কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারে তার স্বাক্ষর রাখতে চান।

এ বিষয়ে কথা হলে ডোমার উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ফিরোজুল ইসলাম (মধু) বলেন এমন  অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অফিসে আবেদন করলে অফিসের নিয়ম ও সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী আমরা সেবা ও সহযোগিতা করে থাকি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com