রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের নতুন বাজারস্থ ‘ফ্যামিলি বাজার’ প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুমুর রশিদ মাসুম।
একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাসুমুর রশিদ মাসুম। এ সময় শ্রীমঙ্গল পোল্ট্রি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও ফল ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ হারুন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মাসুমুর রশিদ বলেন, নতুন বাজারে তার মালিকানাধীন ‘ফ্যামিলি বাজারে’ ব্রয়লার, কক, ডিম ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বিক্রি করা হয়। গত ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও জানান।
তবে তার অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা রোমানা আক্তার শিপাসহ কয়েকজন তার বক্তব্য না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একতরফাভাবে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ও আর্থিকভাবে ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুমুর রশিদ আরও দাবি করেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে শ্রীমঙ্গলে ব্যবসা করছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিছু ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। ১৩ আগস্টের ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এর আগে গত ২১ জুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে কোনো বিষয়বস্তু উল্লেখ না করে তাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের পর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গেলে সেখানে রোমানা আক্তার শিপা নামের এক নারীর ধারণ করা একটি ভিডিও দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুমুর রশিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে ওই নারী দিনের বেলায় তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে কর্মচারীদের কাছে মৃত মুরগি আছে কি না জানতে চান এবং ১২০ টাকায় তিনটি মৃত মুরগি কেনার প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়, অতিরিক্ত গরম বা বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কখনো কখনো দু-একটি মুরগি মারা যেতে পারে। এসব মুরগি কর্মচারীরা বিক্রিযোগ্য মুরগি থেকে আলাদা করে রাখেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, কিছু মানুষ গৃহপালিত কুকুরের খাবার কিংবা চিড়িয়াখানার পশুদের খাদ্য হিসেবে এসব মৃত মুরগি স্বল্প মূল্যে কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়ে যান। এ ধরনের লেনদেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার অংশ নয় এবং এর অর্থ কর্মচারীরাই গ্রহণ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মাসুমুর রশিদ জানান, পরবর্তীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাকে ১৩ আগস্ট পুনরায় হাজির হতে নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত দিনে তিনি সেখানে উপস্থিত হলে ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অবহেলার জন্য তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান।
তার ভাষ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে কর্মচারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত মৃত মুরগি কোনো অসাধু ব্যক্তি হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে তার অভিযোগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার দাবি, রোমানা আক্তার শিপা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তার প্রতিষ্ঠানে মৃত মুরগি বিক্রি হচ্ছে—এমন প্রচার চালান। পরে আরও কয়েকজন একই ধরনের তথ্য প্রচার করায় তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমুর রশিদ আরও একটি পুরোনো ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রায় ছয় মাস আগে সন্ধ্যার সময় এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বস্তায় প্রায় ২০ কেজি কাটা গরুর মাংস নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে এসে বিক্রির প্রস্তাব দেন। তার প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে মাংস কেনে বা বিক্রি করে না জানিয়ে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান তিনি।
মাসুমুর রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।
তবে মৃত মুরগি বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারী বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।