মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
খুলশীতে অবৈধ জুয়ার আসরের অভিযোগ, অসাধু কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার গুঞ্জন চান্দগাঁও থানা জামায়াতের নির্বাচন বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশে মুহাম্মদ উল্লাহ টেকনাফে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রীদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা দিল কোস্ট গার্ড চট্টগ্রামে আ.লীগের নাশকতা প্রতিরোধে এনসিপির মিছিল নাইক্ষ্যংছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার মহাসড়কে বেপরোয়া দুই বাসের সংঘর্ষে শিক্ষার্থীর মৃত্যু পুলিশের বিশেষ ফোর্স মোবিলাইজেশন ড্রিল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঠেকাতে রূপগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ নবীনগরে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অধিক মুনাফার আশায় শত শত বস্তা পেঁয়াজ মজুতের অভিযোগ, পচে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নবীনগরে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

 

মোঃ রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরবর্তীতে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবার দাবি করছে, পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি ডাকাতি মামলায় জড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল মিয়া ওরফে কামাল ভেন্ডর (৫৫) এবং তার স্ত্রী পাপিয়া বেগমকে গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একদল পুলিশ সদস্য তাদের নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রদর্শন করেননি। তারা বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে ঘুমন্ত অবস্থায় দম্পতিকে ডেকে তুলে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নবীনগর থানায় যোগাযোগ করলে প্রথমে আটক হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়। পরে পুনরায় যোগাযোগ করলে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা তাদের আটক করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় গিয়ে তারা দেখতে পান পাপিয়া বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কামাল মিয়াকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন রুবেল অভিযোগ করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ নয়; বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের ফল। তিনি জানান, ২০২২ সালে তার বড় বোন কুহিনূর বেগমের সঙ্গে কসবা উপজেলার আদ্রা গ্রামের রাশেক মিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু বিভিন্ন পারিবারিক কলহ, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
রুবেলের দাবি, বিচ্ছেদের পর থেকেই রাশেক মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

“রাশেক মিয়া একাধিকবার আমাকে ও আমার বড় ভাইকে হত্যা এবং বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছে। বর্তমানে যে ডাকাতি মামলায় আমার ভাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেই মামলার ১ নম্বর আসামি রাশেক মিয়া। আমরা মনে করি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে কৌশলে আমার নির্দোষ ভাইকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।”

কামাল মিয়ার স্ত্রী পাপিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী ঘটনার দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যাননি এবং কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। “গভীর রাতে পুলিশ এসে আমাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে আমাকে ও আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় থানায় রাখার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমার স্বামীকে আটকের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আমি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমার স্বামীর মুক্তি চাই।”

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি আগে থেকেই মামলার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তাকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পরিবারের কাছে তথ্য গোপন রাখা হলো কেন?
আবার অনেকেই বলছেন, অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানালেও কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। কারণ একদিকে যদি প্রকৃত অপরাধী আইনের আওতায় আসে, অন্যদিকে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হলে সেটিও আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কামাল মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা আটক করেছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। কে দোষী আর কে নির্দোষ, সেটি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বলা সম্ভব।”

এ ঘটনায় কামাল মিয়ার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগে উল্লিখিত পূর্বশত্রুতা, গ্রেপ্তারের সময় ও প্রক্রিয়া, এবং মামলায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
বর্তমানে কামাল মিয়া কারাগারে রয়েছেন এবং মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com