মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
পবিত্র রমজানের আগে শবে বরাতের দিন থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। হাড় ছাড়া ও হাড়সহ গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা করে। ব্রয়লার মুরগি, মাছসহ নিত্যপণ্যের সঙ্গে গরুর মাংসেরও দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট বাজারে ৯৫০ টাকা দামে হাড় ছাড়া গুরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৯০০ টাকা। নগরের কিছু বাজারে এক হাজার টাকায়ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। বহদ্দারহাট বাজারে কথা হয় উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর নবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন তিনি। রোজায় কদিনের ছুটি নিয়ে এসেছেন। রোজার বাজার সেরেছেন আগে। তবে মাংস কিনতে এসে হতাশ। তাঁর ভাষ্য, রমজানে দাম কমার কথা, উল্টো বাড়ে।
এদিন মোহাম্মদ নূর নবীর মতো আরও কয়েকজন ক্রেতা গরুর মাংসের দাম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। অবশ্য বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শবে বরাতের পর থেকেই বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। নগরের অন্তত চারটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে হাড়সহ গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা।
ক্ষেত্র বিশেষে তা ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে হাড়ছাড়া মাংস প্রতিকেজি ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা। আজ নগরের বহদ্দারহাট, খাজা রোড, রাহাত্তারপুলসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে বিভিন্ন দোকানে এ দামেই গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায় গরু জবাই হয়েছে। এসব স্থানে ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল হাড় ছাড়া মাংস নেওয়ার সুযোগ কম।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে হাড় ছাড়া মাংসের দাম বেড়েছে। ওঠানামা করেছে ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। ২০২৪ সালেও দাম এক হাজার টাকা ছাড়িয়েছিল। উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন—এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। তবে এলাকাভিত্তিক কিছু বিক্রেতার কাছে বাজারদরের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেও মাংস পাওয়া যায়। দোকানিদের ভাষ্য, খামারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
চট্টগ্রাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে গরুর মাংসের জাতীয় গড় খুচরা দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩১৭ টাকা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ৪১৯ টাকায়। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড় দাম উঠে আসে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
২০২৫ সালে সেটি ৯০০ টাকার আশপাশে এসে যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির খবর পেলে আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করছি। রোজায় মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে। কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’