বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
শ্রীমঙ্গলে বিক্রিত জমি রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে গোপনে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ যশোরের ঝিকরগাছায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ও নগদ টাকা সহ ব্যাবসায়ী আটক ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বাপর ‘তিন মাসে ‌‌১৩৩ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’, উদ্বেগ ঐক্য পরিষদের শ্রীমঙ্গলে সাড়ে ৮ হাজার লিটার ভোজ্য তেল মজুদ, এক প্রতিষ্টানকে অর্থদন্ড শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান বড়লেখায় ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ডিমলায় নবম শ্রেণির ছাত্রী গণধর্ষণের ৪৮ ঘন্টা না পেরুতেই ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ “অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ”—চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মৌলভীবাজারে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, এক শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনায় সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে চিরচেনা তিলকখালী খাল

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে তিলকখালী খাল নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের তিলকখালী খাল আজ নীরবে হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় যে খালটি ছিল কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে সেটি এখন প্রায় ভরাট। ফলে এলাকার কৃষকেরা সেচ সংকটে পড়ছেন, উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং খালনির্ভর দেশীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় ১৫৯টি খাল রয়েছে। এসব খালের মধ্যে তিলকখালী খালটি অতীতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। ভদ্রপাড়া, মেদনী, কৃষ্ণপুর, রামপুর, বালুয়াখালী, কার-বাংলা ও বড়ওয়ারি গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ হতো।
এক সময় নেত্রকোনা অঞ্চলে সেচ সুবিধার অভাব, জলাবদ্ধতা ও মৌসুমি খরার কারণে বহু জমি চাষের বাইরে ছিল। সেই সংকট দূর করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ‘মাটি ও মানুষ’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের উদ্যোগ নেন।
তিলকখালী খাল খননও ছিল সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচির অংশ। ১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়া দুইবার নেত্রকোনা সফর করেন এবং তিলকখালী খালের খনন কাজ সরাসরি তদারকি করেন। তাঁর আহ্বানে কৃষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণির মানুষ খাল খননে অংশ নেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল তুলে কাজ করায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়।
এর ফলে কয়েকশ একর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয় এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। খালটির বিভিন্ন অংশ দখল ও পলি জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় আজ খালটি অস্তিত্ব হারানোর মুখে। ফলে নতুন প্রজন্ম এই খালকে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই জানতে পারছে।
মেদনী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফকরুল ইসলাম খান (রতন মিয়া) জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খননের দৃশ্য এখনো এলাকার মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তিনি বলেন, সে সময় বিনামূল্যে সেচযন্ত্র বিতরণও করা হয়েছিল, যা কৃষকদের জন্য বড় সহায়তা ছিল। স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়ার ভাষ্য, খাল খননের পর সারা বছর পানি পাওয়া যেত, সেচ ছিল সহজ এবং প্রচুর দেশীয় মাছ ধরা পড়ত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই সব সুবিধা আর নেই।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্নি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে কংস নদীতে মিলিত হওয়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তিলকখালী খালটি বোর্ডের তালিকাভুক্ত। খালটি পুনঃখননের জন্য শিগগিরই সার্ভে ও নকশা প্রণয়ন শেষে কাজ শুরু করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com