বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর
- শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ / ৮৬ জন দেখেছে


সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে তিলকখালী খাল নেত্রকোনা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের তিলকখালী খাল আজ নীরবে হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় যে খালটি ছিল কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে সেটি এখন প্রায় ভরাট। ফলে এলাকার কৃষকেরা সেচ সংকটে পড়ছেন, উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং খালনির্ভর দেশীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় ১৫৯টি খাল রয়েছে। এসব খালের মধ্যে তিলকখালী খালটি অতীতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। ভদ্রপাড়া, মেদনী, কৃষ্ণপুর, রামপুর, বালুয়াখালী, কার-বাংলা ও বড়ওয়ারি গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এই খালের পানির ওপর নির্ভর করে চাষাবাদ হতো।
এক সময় নেত্রকোনা অঞ্চলে সেচ সুবিধার অভাব, জলাবদ্ধতা ও মৌসুমি খরার কারণে বহু জমি চাষের বাইরে ছিল। সেই সংকট দূর করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ‘মাটি ও মানুষ’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের উদ্যোগ নেন।
তিলকখালী খাল খননও ছিল সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচির অংশ। ১৯৭৯ সালে শহীদ জিয়া দুইবার নেত্রকোনা সফর করেন এবং তিলকখালী খালের খনন কাজ সরাসরি তদারকি করেন। তাঁর আহ্বানে কৃষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণির মানুষ খাল খননে অংশ নেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল তুলে কাজ করায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়।
এর ফলে কয়েকশ একর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয় এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। খালটির বিভিন্ন অংশ দখল ও পলি জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় আজ খালটি অস্তিত্ব হারানোর মুখে। ফলে নতুন প্রজন্ম এই খালকে ইতিহাসের অংশ হিসেবেই জানতে পারছে।
মেদনী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফকরুল ইসলাম খান (রতন মিয়া) জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খননের দৃশ্য এখনো এলাকার মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তিনি বলেন, সে সময় বিনামূল্যে সেচযন্ত্র বিতরণও করা হয়েছিল, যা কৃষকদের জন্য বড় সহায়তা ছিল। স্থানীয় কৃষক দুলাল মিয়ার ভাষ্য, খাল খননের পর সারা বছর পানি পাওয়া যেত, সেচ ছিল সহজ এবং প্রচুর দেশীয় মাছ ধরা পড়ত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই সব সুবিধা আর নেই।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্নি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে কংস নদীতে মিলিত হওয়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তিলকখালী খালটি বোর্ডের তালিকাভুক্ত। খালটি পুনঃখননের জন্য শিগগিরই সার্ভে ও নকশা প্রণয়ন শেষে কাজ শুরু করা হবে।