শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মেসেঞ্জারে দেওয়া এসব হুমকিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
হুমকির শিকার ছয়জন হলেন, দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় রশিদ, ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহ্বায়ক নাঈম হাসান, জেলা এনসিপির সদস্য হায়দার আলী এবং নাঈম।
জিডির বর্ণনা অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১টা ২৯ মিনিটের দিকে ‘নো ক্যাপশন’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মো. মুজাহিদুল ইসলামের ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভয়ংকর ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। হুমকিদাতা তাকে হত্যার পাশাপাশি লাশ গুম করার কথাও উল্লেখ করে একটি তালিকা পাঠায়, যেখানে উপরোক্ত ছয়জনের নাম উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালাগালও করা হয়।
মো. মুজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে এবং আমার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক আইডি, মেসেঞ্জার ও কমেন্টের মাধ্যমে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।”
এ বিষয়ে সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির জানান, রোববার দুপুরে তাকে সহ এনসিপি ও ছাত্র ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়জন একসঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন। পরে জিডি করা হয়। শ্রীমঙ্গল থানায় দায়ের করা জিডির নম্বর ১১৬৩। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, হুমকিদাতাকে শনাক্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।