শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেঘনা নদীর তীরবর্তী আলোচিত এমপি টিলা থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি পরিকল্পিত অপহরণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙ্গা এলাকার এমপি টিলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আমির হোসেন (৪৩) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। তার গ্রামের বাড়ি চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজৌপুরে হলেও শৈশব থেকে তিনি বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের দিগল্যাকান্দি গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মরদেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার ইঙ্গিত দেয়। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একজন সাবেক জনপ্রতিনিধিকে কীভাবে অপহরণ করে অন্য জেলায় এনে ফেলে যাওয়া হলো? এর পেছনে কারা জড়িত?
সলিমগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) সুনীল চন্দ্র সূত্রধর জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, নরসিংদীর বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে এনে এখানে ফেলে যায়। মরদেহের সুরতাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা ও নদীপথে নিরাপত্তা জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির এভাবে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের তদন্ত কত দ্রুত প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।