সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

মো সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ঢালারমুখ এলাকায় অবৈধ বালু পাচার বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বটবিট কর্মকর্তাসহ বনবিভাগের দুজনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধূন বারবাকিয়া রেঞ্জের টইটং বনবিট কর্মকর্তা মো.এহেসানুল হক, পহঁরচাদা বিটের মাঝি (বনবিভাগের কাজে সহায়তাকারী) মোকতার আহমদ ওরফে মোকতার মাঝি। রাতে দুজনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত মোকতার আহমদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টইটং ঢালারমুখ এলাকায় একটি বালুর পয়েন্ট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছিল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তিন দিন আগে একই পয়েন্ট থেকে বালু পাচারের সময় দুইটি স্কেভেটর জব্দ করে বনবিভাগ। শনিবার রাতে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। অভিযান পরিচালনায় ছিলেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান, টইটং বনবিট কর্মকর্তা এহেসানুল হক, পেকুয়া থানা পুলিশসহ বনবিভাগের একাধিক লোকজন। এদিকে খবর পেয়ে রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) দেলোয়ার হোসেন।এসময় তিনি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা ‘ডাকাত এসেছে’ বলে আশেপাশের মানুষকে জড়ো করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করে।
অভিযানে পুলিশ সদস্যরা বনবিভাগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকলেও হামলাকারীরা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাদের কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে।
টইটং বনবিট কর্মকর্তা মো. এহেসানুল হক বলেন, অবৈধভাবে বালু পাচার বন্ধ করতে গেলে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, আমরা বালু পাচারের খবর পেয়ে অভিযানে যাই। অভিযান শেষে ফেরার পথে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।