বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ অমান্য, চট্টগ্রামের ডিসিকে আদালতের নোটিশ নওগাঁর সেফটি ট্যাংকে মিতুর লাশের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন লোহাগাড়ায় জামাল উদ্দিনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার লুট মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ও প্রশমন দিবস পালিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি: আশার আলো নাকি নতুন প্রশ্ন? শ্রীবরদীতে পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা সহ পিকআপ ভ্যান আটক শেরপুরের সীমান্তে বিজিবির রাতভর অভিযানে ২৩ লাখ টাকার ভারতীয় মদ ও পিকআপসহ আটক- ১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাপড়ের দোকানে অনিয়ম: দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা মানুষ হিসেবে আমাদের প্রধান কাজ হলো অসহায় মানুেষর পাশে দাঁড়ানো: মো: মুজিবুর রহমান এমপি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোজতবা খামেনি, বংশপরম্পরায় নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়

সংসদ নির্বাচনে ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে- আপেল মাহমুদ

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তখন পর্যটন এলাকাগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

নির্বাচনকালীন সময়েও পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ দখলদারিত্ব সহ্য করা হবে না, এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।
সম্প্রতি কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব অন্যান্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্ব একটাই- পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটন এলাকায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা ঠেকানো।’

আপেল মাহমুদ বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন কোনোভাবেই পর্যটন এলাকায় প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের পর্যটন খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তাই নির্বাচন চলাকালীন সময়েও শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবান, রাঙামাটি ও অন্যান্য পর্যটন এলাকায় বাড়তি টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ থাকলেও এবার এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে কোনো অবৈধ দখলদার, কোনো চাঁদাবাজ বা সিন্ডিকেটের জন্য একচুল জায়গা নেই। তারা যতই শক্তিশালী হোক, আইন সবার জন্য সমান।’
হোটেল-মোটেল, সৈকত এলাকা, পরিবহন ব্যবস্থা, ট্যুর গাইড ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনা হচ্ছে। অবৈধভাবে দখল করা সৈকত এলাকা ও পর্যটন স্পট উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ এখন কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, বরং একটি পর্যটকবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে। পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে হটলাইন, দ্রুত রেসপন্স টিম ও মোবাইল পেট্রোল ইউনিট। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের জন্য বিশেষ আচরণগত প্রশিক্ষণ, বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগে ভাষাগত প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্ব ও কর্মদক্ষতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি, হঠাৎ অভিযান এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে আলাদা করে তুলে ধরেছে। পুলিশ বাহিনীর একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিনি শুধু নির্দেশ দেন না, নিজে মাঠে নেমে কাজ করেন। এমন পেশাদার ও ভিশনারি কর্মকর্তা এখন খুব বেশি দেখা যায় না।’ ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরছে
কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ট্যুরিস্ট পুলিশের বর্তমান ভূমিকার প্রশংসা করছেন। কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির এক নেতা বলেন, ‘আগে কিছু দুষ্টচক্র পর্যটকদের জিম্মি করে রাখত। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি আমাদের ব্যবসায় আস্থা ফিরিয়েছে।’ তার মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলে এই নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. মাইনুল হাসান, পিপিএম, এনডিসি বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ দেশের পর্যটন খাতকে নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পর্যটকবান্ধব রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে আপেল মাহমুদ জানান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট পুলিশিং এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ট্যুরিস্ট পুলিশকে আন্তর্জাতিক মানের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, ‘পর্যটন এলাকা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি দেশের সম্পদ। এখানে অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ নির্বাচন সামনে রেখে যখন দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে ট্যুরিস্ট পুলিশের এই দৃঢ় অবস্থান কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com