বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর
- মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ / ১৩০ জন দেখেছে


বেরোবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে খুব কম মানুষই আছেন, যাদের জীবন কেবল ক্ষমতার গল্প নয়—বরং সময়ের সঙ্গে লড়াইয়ের দলিল। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার যাত্রা ছিল অনিশ্চয়তা, শোক ও প্রতিকূলতায় ভরা। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর পর ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙন, রাজনৈতিক জীবনে দমন-পীড়ন, কারাবাস ও দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি।
বিদেশে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশের মাটিতেই থেকে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার সিদ্ধান্ত তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। সময়ের পর সময় বিতর্ক, সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থেকেও তিনি আপসের পথ বেছে নেননি। এই আপসহীনতাই তাকে একজন সংগ্রামী নেত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের শিক্ষার্থীরা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখছেন শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন প্রতিরোধের প্রতীক, নারীর আত্মমর্যাদার ভাষা এবং গণতন্ত্রের এক অবিচল মুখ হিসেবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বৃষ্টি খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক যাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম, বিরোধী রাজনীতি ও দৃঢ় দেশপ্রেম তাঁকে সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বে উঠে আসা এক অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সামরিক শাসন পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ক্ষমতা ও বিরোধী উভয় অবস্থায় দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও দেশপ্রেম, নেতৃত্বে ধৈর্য, সংকটে দৃঢ়তা ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব শেখার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম থেকে নেতৃত্বে উঠে আসা ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আরফিন শান্তা বলেন,“রাজনীতি অনেক সময় নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বে আমি মানবিকতার একটি গভীর দিক দেখতে পাই। তিনি ছিলেন একজন রাষ্ট্রনায়ক, আবার একই সঙ্গে একজন মা—এই দুই পরিচয় একসঙ্গে বহন করা সহজ নয়।”
তিনি বলেন, “তার ভাষণে কিংবা বক্তব্যে আমি সবসময় সাধারণ মানুষের কষ্ট, অনুভূতি ও অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখেছি। বর্তমান রাজনীতিতে যেখানে মানবিকতা ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে, সেখানে তার এই গুণ আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—রাজনীতি আসলে মানুষের জন্যই।”
ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সিয়াম হোসাইন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে আমি দেখি আপসহীন রাজনীতির এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে। দীর্ঘ সময় কারাবাস, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের পরও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে যাননি।
বিদেশে গিয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নেওয়া তার জন্য কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু তিনি দেশের মাটিতেই থেকে সংগ্রাম করেছেন। একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় দেশপ্রেম—আর এই জায়গায় বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে অনন্য।”
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী হুমাইরা ইসলাম আনিসা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল শক্তি ছিল গণতন্ত্রে বিশ্বাস। তিনি বারবার ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন।” “রাজনীতিতে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ইতিহাসের বিচারে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি ছিলেন জনমানুষের নেত্রী—যার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।”
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, “আমরা যারা স্বাধীনতার অনেক পরে জন্মেছি, তাদের জন্য ইতিহাস বইয়ের বাইরেও বাস্তব নেতৃত্বকে বোঝা জরুরি। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের শেখায়—সংগ্রাম কখনো একদিনে শেষ হয় না। তার রাজনৈতিক জীবন থেকে আমরা ধৈর্য, সাহস ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা নিতে পারি। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে এমন জীবন থেকেই আমাদের শিখতে হবে।”
বেরোবির শিক্ষার্থীরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে রাজনীতি নিয়ে যখন হতাশা বাড়ছে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নতুন প্রজন্মকে সাহস জোগাতে পারে। মতভেদ ও বিতর্ক থাকলেও তার সংগ্রাম, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
শিক্ষার্থীদের ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায় নন—তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক শক্ত ভিত্তি।