রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল হক রহমত ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দিতে জোড়া খুনের ঘটনায় ‘প্রকৃত হত্যাকারীর’ পরিবর্তে একজন স্কুলশিক্ষককে হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুলিশ অবশ্য বলছে, মামলায় যার নামই থাকুক, তদন্তে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না।
গত ১ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে বড়িকান্দি গণি শাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তিনজন শিপন (৩০), ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮)। হামলার পরপরই আরেকদল সন্ত্রাসী তালতলায় গিয়ে এমরান হোসেন মাস্টারের (৪২) অফিস ভাঙচুর ও তাকে গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ শিপন ও ইয়াছিন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এমরান মাস্টার এখনও ঢাকায় চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের দাবি, এমরান মাস্টার ঢাকায় কর্মরত এক উপ-পুলিশ কমিশনারের ছোটভাই।
নিহত শিপনের মা বাদী হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় এমরান হোসেন মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়।
অপর মামলার বাদী এমরান মাস্টারের চাচাতো ভাই; সেখানে শিপনের বাবা মনেক ডাকাতকে প্রধান আসামি করা হয়। মনেকের বিরুদ্ধে থানায় ২০টির বেশি মামলা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, হামলার রাতে শিপনকে গুলি করেছে রিফাত বাহিনীর প্রধান রিফাত ও তার সহযোগীরা—এটি সবার জানা। কিন্তু হত্যা মামলায় রিফাতের নামই নেই। বরং ভিলেজ পলিটিক্সের জেরে এমরান মাস্টারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
যদিও মামলার এজাহারে রিফাতের নাম না থাকলেও তার ভাই আরাফাতকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এরমধ্যে র্যাব ও পুলিশ রিফাতসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রিফাত (৩০), লিমন (২৮), রুবেল (৪৫) ও রাশেদুল (৩৪)।
নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম জানান
মামলার বাদী কাকে আসামি করবেন, এটি সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার।
তবে তদন্তে রিফাত ও গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।
কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে হয়রানি করা হবে না।
সঠিক তদন্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত অপরাধীকে বাদ দিয়ে একজন স্কুলশিক্ষককে জড়িয়ে দেওয়ায় এলাকায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।