সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল হক রহমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভা এখন যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি, মাদক ব্যবসা ও গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় কেঁপে উঠছে পৌরবাসী। কিন্তু প্রতিবারই অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে অধরাই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অপরাধের মূল পেছনে রয়েছে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, সিসি ক্যামেরার অপ্রতুলতা ও কার্যকর নজরদারি না থাকা। রাতে রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে গেলে দুর্বৃত্তরা সহজেই অপরাধ ঘটিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। পুলিশও সঠিক প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে।
নবীনগর পৌর এলাকার পদ্মপাড়া, পশ্চিমপাড়া, কোর্ট রোড ও টিএনএটি রোডসহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনো পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট নেই। রাত নামলেই অন্ধকারে ঢেকে যায় এলাকা, যা দুর্বৃত্তদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি পদ্মপাড়ায় ধারাবাহিক কয়েকটি ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে আদালত পুকুরপাড়ের ‘বউ সাজ বিউটি পার্লার’ থেকে পুলিশ জাল নোট ও অস্ত্রসহ একটি ব্যাগ উদ্ধার করে। তবে ওই এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ অস্পষ্ট থাকায় ঘটনার রহস্য উন্মোচন সম্ভব হয়নি।
এরপর ১৫ অক্টোবর একই এলাকার প্রবাসী শরীফ মিয়ার বাসায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ঢুকে নগদ সাত লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। আশপাশে কোনো ক্যামেরা না থাকায় সূত্র না মিললেও এক দোকানের ফুটেজ দেখে পুলিশ পরে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
এর মাত্র দশ দিন পর, ২৪ অক্টোবর, একই পদ্মপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান মুকুল। দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে কোনো লাইট বা ক্যামেরা না থাকায় পুলিশ এখনো অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
অন্যদিকে, বাজার কমিটির উদ্যোগে কিছু স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর। মাসের পর মাস বন্ধ পড়ে থাকা এসব ক্যামেরা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
নবীনগর বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ি শাহীন রেজা টিটু বলেন , “যদি প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা যায়, তাহলে অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমি মনে করি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবীনগর পৌর প্রশাসক রাজীব চৌধুরী জানান, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যে ২০০টি নতুন লাইট ক্রয় করা হয়েছে। অন্ধকার এলাকাগুলোতে দ্রুত সেগুলো স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
নবীনগর পৌরবাসীর দাবি—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আলোকসজ্জা ও নজরদারি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি, নয়তো অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।