সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
অধিক মুনাফার আশায় শত শত বস্তা পেঁয়াজ মজুতের অভিযোগ, পচে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী চকরিয়ায় ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি মনসুর মহসিন, সম্পাদক ইউসুফ কক্সবাজার সদর থানার অভিযানে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক দুই সিএমপিতে ফের রদবদল— কোতোয়ালী, কর্ণফুলী ও সদরঘাটে নতুন ওসি লোহাগাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৌলানা হেলাল উদ্দিন আটক রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় রায়:পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক কক্সবাজারে ঘুষে চলছে শতাধিক অবৈধ ভাটা, সংরক্ষিত বনে ৩১ ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন বড়লেখায় ডাকাতির চেষ্টা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের বাসা থেকে চুরি ওয়া মালামাল উদ্ধার, কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

আইনের চোখ বেঁধে ইটভাটার দৌরাত্ম্য : ঘুমধুম–রেজু আমতলী সড়কে প্রশাসনের নীরবতা কেন?

 

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

ঘুমধুম–রেজু আমতলী সড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ ইটভাটা এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। প্রকাশ্য দিবালোকে, প্রশাসনের নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে এসব ইটভাটা বছরের পর বছর ধরে পরিবেশ ধ্বংস, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও আইন লঙ্ঘনের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো—এতসব অনিয়মের পরও কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অপতৎপরতা?

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়—বরং ভয়াবহ। এসব ইটভাটার টিনের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ, কৃষিজমি ও পাহাড় কেটে আনা মাটি। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, বন আইন ও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন—সব কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।

 

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এসব ইটভাটার চারপাশে রয়েছে একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। কোমলমতি শিশুদের প্রতিদিন ধোঁয়া, ছাই ও বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে পাঠদান চলছে। এ যেন রাষ্ট্র নিজেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে তোলার আয়োজন করেছে। শিশুদের ফুসফুসে বিষ ঢুকছে, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

 

ইট, কাঠ ও মাটি বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো আজ বেহাল দশায়। স্থানীয় জনগণের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যেসব সড়ক সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত, সেগুলো এখন ইটভাটা মালিকদের অবাধ শোষণের শিকার।

প্রশ্ন উঠছে—এই অবৈধ ইটভাটাগুলো কি প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে? যদি না চলে, তবে এতদিনে কেন কোনো কার্যকর অভিযান হয়নি? পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ—কার দায়িত্বে কোথায় গাফিলতি? নাকি দায়িত্বহীনতার আড়ালে রয়েছে অদৃশ্য সমঝোতা?

 

রাষ্ট্র যদি সত্যিই পরিবেশ, শিশু ও জনস্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক হয়, তাহলে অবিলম্বে এসব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করতে হবে। দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণের কাছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।

 

এই ইটভাটাগুলো শুধু পরিবেশ ধ্বংস করছে না—এরা আইনের শাসনের কবর রচনা করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবে—অবৈধতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস রাষ্ট্রের কেন ছিল না?

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com