শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
লক্ষ্মীপুর জেলার চরবংশী ইউনিয়নে ভূমিহীন মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি জমি পেতে গিয়ে চরম হয়রানি ও আর্থিক দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি বরাদ্দ পেতে হলে স্থানীয় বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতা মেহেদী কবিরাজকে ‘চাঁদা’ না দিলে কোনোভাবেই জমি মিলছে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেদী কবিরাজ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক কবিরাজের ভাই। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি জমির ওপর তিনি ও তার সহযোগীরা একপ্রকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী কয়েকজন ভূমিহীন জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমি পেতে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করেন এবং স্থানীয় সমিতি থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ বহন করেন। কিন্তু বরাদ্দ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘চাঁদা’ না দিলে ফাইল আটকে রাখা, তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া কিংবা নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। জমির আশায় কিস্তিতে টাকা তুলেছি। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে—আরও টাকা না দিলে জমি হবে না। না দিলে বছরের পর বছর ঘুরতে হবে।”
এ বিষয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের মতো মানবিক কর্মসূচিকে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কলুষিত করা হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে চরবংশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি জমি যেন কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।