মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,খুলনা সদর হাসপাতাল,গাজি মেডিকেল,আসলামী ব্যাংক হাসপাতাল সহ রোগীরা দালাল চক্রের কাছে জিম্মি। আমরা একেতো রোগীর জীবন মরণ নিয়ে সন্ধিক্ষণে দিগবিদিগ ছুটাছুটি আর নানান চিন্তায় অস্তির তারপর আবার দালালদের উৎপাতে একে বারে নাজেহাল অবস্তায় পরে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকার কারণে অনেক রোগীর অকাল মৃত্যুতে পতিত হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভুগী আফরোজা বেগম।
দক্ষিণ বাংলার অন্যতম স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান গুলি এখন কতিপয় দালালদের হাতে জিম্মি আর এই সকল দালালরা সকল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের স্বনাম ধন্য ডাক্তারদের থেকে ১ কাঠি শরষ যে কোনো চিকিৎসার ক্ষেত্রে এদের থেকে আর কেউ ভালো বোঝেনা এমন ভাব তাদের তারাই সর্বজান্তা। আর দালার ছাড়া এখানে কোনো চিকিৎসা মেলেনা দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে উল্টো দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংঘবদ্ধ দালালরা বেশ চৌকশ। এখানে বিভিন্ন বিভাগে চার পাঁচজনের দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় শতাধিক দালালরা পুরো মেডিকেল হাসপাতালটি জুঁড়ে আধিপত্ত বিস্তার করে দাপিয়ে বেড়ায় আর তাদের ক্ষমতার এত বেশি দৌরাত্ব তাদের কেউ কিছু বলার ক্ষমতা রাখেনা। নতুন কোনো রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করার সাথে সাথে দালাল বাহিনীর সদস্যরা হাজির হয়ে রোগীদের সাথে থাকা ব্যক্তিদের মন নরম করার কৌশল অবলম্বন করে বলে আপনারা চিন্তা করবেননা কম মূল্যে ঔষধ ও বাকিতে কিনে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায় হাসপাতালের বাইরে ঔষধের দোকানে। এরপর অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তারা । এছাড়া শহরের সকল প্যাথলজির মালিকদের সাথে আঁতাত রয়েছে দালালদের আর প্যাথলজির কাজে সুবিধা দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের কমিশন।
খুলনা কলেজ মেডিকেল হাসপাতাল, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল তাছাড়াও শহরের নামিদামী কিছু প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মালিক কর্মচারীরা ওৎপেতে থাকে। এখানে আসা রোগী এবং রোগীর স্বজনরা এদের প্রধান টার্গেট। জরুরী বিভাগ বর্হিঃ বিভাগসহ সব স্থানেই প্রকাশ্য এসব দালার চক্রের অবাধ বিচরণ রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে রোগীরা তাদের স্বজনরা কোনো অভিযোগ তুললেই তাদের উপর শুরু হয় নানান হয়রানি। কিন্তু দালাল বাহিনীর লোকদের টাকা দিলেই মেলে মুহুর্তের মধ্যে টিকিট এমন কি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সিরিয়াল কোনোটা পেতে সমস্যা হয় না।
সাম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় বর্হিঃ বিভাগে ডাক্তার দেখাতে টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থেকে ১০ টাকার টিকিটের জন্য প্রতি পদে পদে বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে রোগীদের। আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তাদের সেবা পেতে চেম্বারের সামনে অপেক্ষা করে প্রহর গুনছে কয়েকশো রোগী। আর এই সব অসহায় রোগীদের সেবা পেতে দিগবিদিক ছুটতে হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রেও দালালদের ভুমিকা রয়েছে আকুণ্ঠ।নওয়াপাড়া অভয়নগর থেকে এক রোগী আমেনা বেগম জানান এখানে সেবা নিতে এসে উল্টো কষ্টই পেতে হয় রোগীদের। প্রতিটি ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে দালালরা ওৎপেতে থাকে। তাদের টাকা দিলেই পেছনের সিরিয়াল সামনে চলে আসে যেকোন কৌশলে ২ ঘন্টার কাজ মাত্র ৫ মিনিটে হয়ে যায় আর টাকা না দিলে ভোগান্তীর কোনো অন্ত নাই।
এদিকে আবার দাকোপ থেকে আসা রোগী নিয়ামত মিয়া বলেন আমার স্ত্রীকে গাইনী ডাক্তার দেখাতে এখানে এসেছি। কিন্তু এখানেও দালালদের পদচারনা। ডাক্তার দেখিয়ে বাইরে আসার সাথে সাথে দালালদের একজন আমার হাত থেকে আল্ট্রাসোনো করতে দেওয়ার কাগজও প্রেসক্রিপশানসহ নিয়ে বলে আমাদের সাথে আসেন ভালো যায়গা থেকে আল্ট্রাসোনো করানোর পরেই তাদের ব্যবহার হয়ে গেলো দুর্ব্যবহার আমার কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফিস থেকে ১ হাজার টাকা বেশি না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে রিপোর্ট দেয়নি দালালরা।
এই সকল রোগীদের দুর্দশা দেখে অন্য আর এক রোগীর সাথে আসা স্বজন বলেন সরকারী হাসপাতাল গুলোতে সাধারণত ধণী শ্রেণির রোগীর তুলনায় অধিকাংশ অতি দরিদ্র রোগীদের সংখ্যাই বেশী আর তারা যদি এহেন দালাল চক্রের হাতে স্বীকার হয়ে রোগীদের সেবার পরিবর্তে সর্বশান্ত হয়ে রিক্ত হস্তে রোগীদের অর্থের অভাবে অর্ধ সুস্থ্য অবস্থায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এক্ষেত্রে অসহায় গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা রোগীরা যদি একাটি সরকারী হাসপাতালে পদে পদে ভোগান্তী আর দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাহলে সরকারী হাসপাতাল গুলোর অবস্তান ক্রমন্যায় নি¤œগামী ও সমালোচিত হবে বলে সর্ব সাধারণের মতামত। র্যাব, পুলিশ একাদিক বার অুিভযান চালিয়ে দালালদের গ্রেফতার করলে ও থেমে নেই তাদের ব্যাবস্থা ।