বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক শিখন ঘাটতি পূরণে কাজ করছে ‘পাঠমিতা’ কার্যক্রম। চা বাগান, হাওর ও সমতল এলাকার শিশুদের বাংলা পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে আনন্দময় পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে এ বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম।
ইনস্টিটিউট অব ইনফর্মড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি)-এর সহযোগিতায় ‘এডুকেশন (ই)কোয়ালিটি থ্রু মাল্টিলেভেল এভিডেন্স-বেইজড অ্যাডভোকেসি ফর পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় ‘টিচিং অ্যাট দ্য রাইট লেভেল’ (TaRL) পদ্ধতিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মাল্টিপারপাস সোশিও ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিডা )।
এ কার্যক্রমে শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় না। বিভিন্ন মজার গল্পের বই, খেলা এবং আনন্দদায়ক পদ্ধতিতে বর্ণ, শব্দ ও সংখ্যার ধারণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের পড়ার দক্ষতা ও গাণিতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শেখার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাঁচটি গ্রামে চা বাগান, হাওর ও সমতল এলাকার শিশুদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম। স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের নিয়ে ফ্যাসিলিটেটর দল গঠন করে তাঁদের পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্যাসিলিটেটররা ৬০ দিনের নিবিড় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পাঠমিতা কার্যক্রমে শিশুদের শেখার অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়। প্রতি ১৫ দিন পর বাংলা ও গণিতে শিশুদের দক্ষতা যাচাই করে তাদের পরবর্তী শেখার ধাপ নির্ধারণ করা হয়। যারা নির্ধারিত দক্ষতা অর্জন করে, তারা পরবর্তী স্তরে উন্নীত হয়। আর যাদের আরও সহায়তা প্রয়োজন, তারা বর্তমান স্তরেই অনুশীলন চালিয়ে যায়। ফলে প্রতিটি শিশু নিজের শেখার গতি ও সক্ষমতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে খাইছড়া চা বাগানের বাসিন্দা পরাগ বাড়ই বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে শিখছে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের জন্য এ কার্যক্রম অনেক উপকারে আসছে। আমি চাই, এমসিডিএর মাধ্যমে পাঠমিতা কার্যক্রমটি আরও চা বাগানে সম্প্রসারিত করা হোক।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, আনন্দময় ও শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিখন ঘাটতি পূরণ এবং বিদ্যালয়ের পড়াশোনায় তাদের আরও দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে পাঠমিতা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ উদ্যোগের পরিধি বাড়ানো গেলে চা বাগান, হাওর ও সমতলের আরও অনেক শিশু উপকৃত হবে।