রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২০ জন নিহত চন্দনাইশে সন্ত্রাসী বাবু মার্মাসহ ১ সন্ত্রাসী আটক মৌলভীবাজারে প্রাইভেট কার ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত আটক বাঁশখালীতে মাকে হত্যা মামলায় স্ত্রীসহ ছেলে গ্রেপ্তার নাইক্ষ্যংছড়িতে টিলা থেকে পড়ে মারা যাওয়া শাবককে তিন দিন পাহারা দিল হাতি দম্পতি সংবাদ প্রকাশের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা, আন্ডা রফিক নিয়ে চাঞ্চল্য “অভিযোগের আগুনে উত্তাল নবীনগর” — নারগিছ আক্তারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন মণিরামপুরে বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে এতিমের চাউল আত্মসাতের অভিযোগ নেত্রকোনায় বেড়েছে আগাম বন্যার ঝুঁকি, হাওরে বোরো ফসল নিয়ে কৃষকের শঙ্কা লোহাগাড়ায়,মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

নাইক্ষ্যংছড়িতে টিলা থেকে পড়ে মারা যাওয়া শাবককে তিন দিন পাহারা দিল হাতি দম্পতি

 

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন

—————————————-

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অগভীর একটি ডোবায় পড়ে থাকা হাতির শাবকের মৃতদেহের পাশে টানা তিন দিন ধরে অবস্থান করে পাহারা দিয়েছে এক হাতি দম্পতি। উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় গত মঙ্গলবার টিলার পাদদেশে ঘোলা পানির ডোবায় শাবকটির মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

তবে বৃহস্পতিবার শাবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে দাফন সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে বন কর্মকর্তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃতদেহের বেশিরভাগ অংশ পানিতে ডুবে ছিল। এ সময় শাবকটির মা ডোবার পানিতে আংশিক ডুবে পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এবং কিছুটা দূরে একটি পুরুষ হাতি পাহারারত অবস্থায় ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা তিন দিন শাবকটির পাশে অবস্থান করে হাতি দুটি। রাতে পুরুষ হাতিটি খাবারের সন্ধানে জঙ্গলে গেলেও আবার ফিরে এসে একই স্থানে অবস্থান নেয়।

একইভাবে মা হাতিটিও অল্প সময়ের জন্য খাবার সংগ্রহ করে আবার শাবকের কাছে ফিরে আসে।নাইক্ষ্যংছড়ি সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম এ এলাকা প্রশাসনিকভাবে বান্দরবানের অন্তর্গত হলেও বনাঞ্চলটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের আওতাধীন। নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তানভীর চৌধুরী জানান, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় মৃত শাবকের খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তবে মা ও বাবা হাতির উপস্থিতির কারণে মৃতদেহ উদ্ধারে দেরি হয়েছে।তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শাবকটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে যথাযথ নিয়মে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। সোনাইছড়ি এলাকায় হাতির একটি চলাচলের করিডোর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই পথে চলাচলের সময় টিলা থেকে পড়ে ডোবায় পড়ে শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। শাবকটির বয়স আনুমানিক ৬ থেকে ৭ মাস।’

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দুর্গমতার কারণে ঘটনাস্থলে সরাসরি যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বন বিভাগের মাধ্যমে জানা গেছে, শাবকটির মরদেহ যথাযথ নিয়মে দাফন করা হয়েছে।’ এ ঘটনায় বন্যপ্রাণীর আবেগ ও পারিবারিক বন্ধনের একটি বিরল দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করেছেন স্থানীয়রা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com